ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেরেবাংলা নগরে জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা, স্বর্ণালংকার ও নগদ লুট গাজীপুরে বিএসটিআইয়ের মোবাইল কোর্ট: অননুমোদিত মানচিহ্ন ব্যবহারে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা কালিগঞ্জে ডিসি আফরোজা আক্তারের হুঁশিয়ারি নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না তরুণদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল ব্যালটে, কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপির নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে অভিনয়ে আলোচনায় আয়েশা তাব্বাসুম ধর্ম ব্যবহার করে ভোট চাওয়া আচরণবিধি লঙ্ঘন: সেলিমা রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব: নাহিদ ইসলাম জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬: নীলফামারীতে মাধ্যমিকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ফাবিহা মাহ্জাবিন রোজা মমতাজ বেগমের ৪৭৪ শতাংশ জমি ও তিনটি বাড়ি জব্দের আদেশ আদালতের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে শরিয়াহভিত্তিক ঋণ চালুর উদ্যোগে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহর

তরুণদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল ব্যালটে, কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণরা ইতোমধ্যেই তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং খুব শিগগিরই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তারা ব্যালটে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন বলেই তিনি নিশ্চিত।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “যেদিন তারা আমাদের ক্লাসরুমে ছিল, আজ তারা রাস্তায় নেমেছে। এরপর তারা নিজেদের একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। আর তারা নির্বাচিত হলে, তাদের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ শিক্ষামন্ত্রী হবেন।” তিনি শিক্ষাবিদদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত— সেই বিষয়ে এখনই গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকেও এগিয়ে নিতে হবে।

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এখন জানুয়ারি ২০২৬— সময় খুব দ্রুত চলে গেছে। এই কারণেই আমি আশা করি, এই সম্মেলন ও আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা কোথায় আছি, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কীভাবে পিছিয়ে না পড়ে সামনে দৌড়ানো যায়— সেটাই এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার নামে আমরা যেসব বিষয় চালিয়ে যাচ্ছি, সেগুলো যদি ঠিক না করি, তাহলে এই সংকট বারবার ফিরে আসবে।” শিক্ষাবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে জানতে হবে— কেন তারা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে রাস্তায় নেমেছে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় কী অনুপস্থিত রয়েছে।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সম্ভবত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা একে চাকরিমুখী শিক্ষা হিসেবে গড়ে তুলেছি। শিক্ষার্থী চাকরি না পেলে আমরা ধরে নিই, সে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো— চাকরি পাওয়াই কি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য?” তিনি বলেন, ডিগ্রি কেবল চাকরির বাজারের উপযোগী হওয়ার জন্য নয়, বরং মানুষের চিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য হওয়া উচিত।

মানুষের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার প্রসঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “মানুষ দাস হিসেবে জন্মায় না। চাকরি মূলত দাসত্বের ঐতিহ্য থেকে এসেছে। আপনি কাজটি পছন্দ করেন না, তবুও করেন— কারণ বেতন দেওয়া হয়। এটিই দাসত্ব।” তিনি বলেন, মানুষ জন্মগতভাবেই সৃজনশীল সত্তা এবং সেই সৃজনশীলতাই মানুষের সারমর্ম।

তিনি আরও বলেন, “এই তরুণরা যারা রাস্তায় নেমেছিল, তারা দাস হতে অস্বীকার করেছে। তারা আদেশ নিতে চায়নি, সেখান থেকেই সংঘর্ষের সূচনা।” এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমরা কী ধরনের শিক্ষা দিতে চাই? দাস তৈরি করার শিক্ষা, নাকি সৃজনশীল উদ্যোক্তা তৈরি করার শিক্ষা?”

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আসছে। অভ্যুত্থান পুরনো অনেক কাঠামো ভেঙে দিয়েছে। সেই জায়গা থেকে তরুণরা তাদের নিজস্ব ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করেছে।” তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা কী হবে— তা নির্ধারণের জন্য গণভোট হওয়া উচিত। সংবিধান নিয়ে ভুল করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তরুণদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল ব্যালটে, কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আপডেট সময় : ০৬:২১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণরা ইতোমধ্যেই তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং খুব শিগগিরই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তারা ব্যালটে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন বলেই তিনি নিশ্চিত।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা–২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “যেদিন তারা আমাদের ক্লাসরুমে ছিল, আজ তারা রাস্তায় নেমেছে। এরপর তারা নিজেদের একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। আর তারা নির্বাচিত হলে, তাদের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ শিক্ষামন্ত্রী হবেন।” তিনি শিক্ষাবিদদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কেমন হওয়া উচিত— সেই বিষয়ে এখনই গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে। পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকেও এগিয়ে নিতে হবে।

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এখন জানুয়ারি ২০২৬— সময় খুব দ্রুত চলে গেছে। এই কারণেই আমি আশা করি, এই সম্মেলন ও আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা কোথায় আছি, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কীভাবে পিছিয়ে না পড়ে সামনে দৌড়ানো যায়— সেটাই এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার নামে আমরা যেসব বিষয় চালিয়ে যাচ্ছি, সেগুলো যদি ঠিক না করি, তাহলে এই সংকট বারবার ফিরে আসবে।” শিক্ষাবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণ নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে জানতে হবে— কেন তারা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে রাস্তায় নেমেছে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় কী অনুপস্থিত রয়েছে।

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সম্ভবত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা একে চাকরিমুখী শিক্ষা হিসেবে গড়ে তুলেছি। শিক্ষার্থী চাকরি না পেলে আমরা ধরে নিই, সে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো— চাকরি পাওয়াই কি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য?” তিনি বলেন, ডিগ্রি কেবল চাকরির বাজারের উপযোগী হওয়ার জন্য নয়, বরং মানুষের চিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য হওয়া উচিত।

মানুষের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার প্রসঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “মানুষ দাস হিসেবে জন্মায় না। চাকরি মূলত দাসত্বের ঐতিহ্য থেকে এসেছে। আপনি কাজটি পছন্দ করেন না, তবুও করেন— কারণ বেতন দেওয়া হয়। এটিই দাসত্ব।” তিনি বলেন, মানুষ জন্মগতভাবেই সৃজনশীল সত্তা এবং সেই সৃজনশীলতাই মানুষের সারমর্ম।

তিনি আরও বলেন, “এই তরুণরা যারা রাস্তায় নেমেছিল, তারা দাস হতে অস্বীকার করেছে। তারা আদেশ নিতে চায়নি, সেখান থেকেই সংঘর্ষের সূচনা।” এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমরা কী ধরনের শিক্ষা দিতে চাই? দাস তৈরি করার শিক্ষা, নাকি সৃজনশীল উদ্যোক্তা তৈরি করার শিক্ষা?”

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আসছে। অভ্যুত্থান পুরনো অনেক কাঠামো ভেঙে দিয়েছে। সেই জায়গা থেকে তরুণরা তাদের নিজস্ব ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করেছে।” তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা কী হবে— তা নির্ধারণের জন্য গণভোট হওয়া উচিত। সংবিধান নিয়ে ভুল করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।