ঢাকা ০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেরেবাংলা নগরে জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা, স্বর্ণালংকার ও নগদ লুট গাজীপুরে বিএসটিআইয়ের মোবাইল কোর্ট: অননুমোদিত মানচিহ্ন ব্যবহারে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা কালিগঞ্জে ডিসি আফরোজা আক্তারের হুঁশিয়ারি নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না তরুণদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল ব্যালটে, কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপির নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে অভিনয়ে আলোচনায় আয়েশা তাব্বাসুম ধর্ম ব্যবহার করে ভোট চাওয়া আচরণবিধি লঙ্ঘন: সেলিমা রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব: নাহিদ ইসলাম জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬: নীলফামারীতে মাধ্যমিকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ফাবিহা মাহ্জাবিন রোজা মমতাজ বেগমের ৪৭৪ শতাংশ জমি ও তিনটি বাড়ি জব্দের আদেশ আদালতের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে শরিয়াহভিত্তিক ঋণ চালুর উদ্যোগে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহর

প্রেমিককে নিয়ে স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন বাউল শিল্পী সোনিয়া

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১০:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সুমন খলিফা হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হত্যায় জড়িত স্ত্রীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।

গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী বাউল শিল্পী সোনিয়া আক্তার (২২), ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নের উত্তর নরসিংহপুর এলাকার আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে সোনিয়ার পরকীয়া প্রেমিক মেহেদী হাসান ওরফে ইউসুফ (৪২), তার শ্যালক চর কাশীপুরের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুর রহমান (২৮), সহযোগী উত্তর নরসিংহপুরের মৃত বাদশার ছেলে বিল্লাল হোসেন (৫৮), সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ির আব্দুল হাই হাওলাদারের ছেলে আলমগীর হাওলাদার (৪৫) ও দিদার বক্সের ছেলে নান্নু মিয়া (৫৫)।

নিহত সুমন খলিফা (৩৫) বরিশালের আগৈলঝড়ার আন্দারমানিক গ্রামের মন্টু খলিফার ছেলে। তিনি স্ত্রী সোনিয়া আক্তারকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, নিহত সুমন খলিফা বেকার ছিলেন। তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দুমাস আগে একটি গানের অনুষ্ঠানে পরিচয়ের সূত্র ধরে তার সঙ্গে মেহেদী হাসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে মেহেদীর কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন তিনি। মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথাও বলতেন তারা। প্রেমের বিষয়টি সুমন খলিফা জেনে যাওয়ায় সংসারে কলহের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক।

তিনি আরও বলেন, গত ৩০ নভেম্বর রাতে সুমন ও সোনিয়া বাসা থেকে বেরিয়ে পঞ্চবটি এলাকায় একটি গানের অনুষ্ঠানে যান। রাত ১১টার দিকে স্ত্রীকে রেখে অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যান সুমন খলিফা। তখন মেহেদী হাসান টাকা ধার দেওয়ার কথা বলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সুমন খলিফাকে নিয়ে যান মধ্য নরসিংহপুর একটি পরিত্যক্ত জায়গায়। পরে প্রেপ্তারকৃতরা মিলে সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে চলে যায়। পরদিন সকালে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মন্টু খলিফা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মিজানুর রহমান বলেন, মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে নিহতের স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিকের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলে। ফলে মঙ্গলবার রাতে নিহতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার ও পরকীয় প্রেমিক মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান ও তার শ্যালক আব্দুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে অন্যদের গ্রেপ্তার ও ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। মামুন নামে আরেকজন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রেমিককে নিয়ে স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করেন বাউল শিল্পী সোনিয়া

আপডেট সময় : ১০:৪৭:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সুমন খলিফা হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হত্যায় জড়িত স্ত্রীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।

গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী বাউল শিল্পী সোনিয়া আক্তার (২২), ফতুল্লার কাশীপুর ইউনিয়নের উত্তর নরসিংহপুর এলাকার আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে সোনিয়ার পরকীয়া প্রেমিক মেহেদী হাসান ওরফে ইউসুফ (৪২), তার শ্যালক চর কাশীপুরের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুর রহমান (২৮), সহযোগী উত্তর নরসিংহপুরের মৃত বাদশার ছেলে বিল্লাল হোসেন (৫৮), সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ির আব্দুল হাই হাওলাদারের ছেলে আলমগীর হাওলাদার (৪৫) ও দিদার বক্সের ছেলে নান্নু মিয়া (৫৫)।

নিহত সুমন খলিফা (৩৫) বরিশালের আগৈলঝড়ার আন্দারমানিক গ্রামের মন্টু খলিফার ছেলে। তিনি স্ত্রী সোনিয়া আক্তারকে নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, নিহত সুমন খলিফা বেকার ছিলেন। তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দুমাস আগে একটি গানের অনুষ্ঠানে পরিচয়ের সূত্র ধরে তার সঙ্গে মেহেদী হাসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে মেহেদীর কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন তিনি। মোবাইল ফোনে নিয়মিত কথাও বলতেন তারা। প্রেমের বিষয়টি সুমন খলিফা জেনে যাওয়ায় সংসারে কলহের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক।

তিনি আরও বলেন, গত ৩০ নভেম্বর রাতে সুমন ও সোনিয়া বাসা থেকে বেরিয়ে পঞ্চবটি এলাকায় একটি গানের অনুষ্ঠানে যান। রাত ১১টার দিকে স্ত্রীকে রেখে অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যান সুমন খলিফা। তখন মেহেদী হাসান টাকা ধার দেওয়ার কথা বলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সুমন খলিফাকে নিয়ে যান মধ্য নরসিংহপুর একটি পরিত্যক্ত জায়গায়। পরে প্রেপ্তারকৃতরা মিলে সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে চলে যায়। পরদিন সকালে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মন্টু খলিফা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা করেন।

মিজানুর রহমান বলেন, মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে নিহতের স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিকের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলে। ফলে মঙ্গলবার রাতে নিহতের স্ত্রী সোনিয়া আক্তার ও পরকীয় প্রেমিক মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান ও তার শ্যালক আব্দুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাদের দেওয়া তথ্য মতে অন্যদের গ্রেপ্তার ও ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। মামুন নামে আরেকজন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।