ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেরেবাংলা নগরে জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা, স্বর্ণালংকার ও নগদ লুট গাজীপুরে বিএসটিআইয়ের মোবাইল কোর্ট: অননুমোদিত মানচিহ্ন ব্যবহারে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা কালিগঞ্জে ডিসি আফরোজা আক্তারের হুঁশিয়ারি নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না তরুণদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল ব্যালটে, কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপির নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে অভিনয়ে আলোচনায় আয়েশা তাব্বাসুম ধর্ম ব্যবহার করে ভোট চাওয়া আচরণবিধি লঙ্ঘন: সেলিমা রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব: নাহিদ ইসলাম জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬: নীলফামারীতে মাধ্যমিকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ফাবিহা মাহ্জাবিন রোজা মমতাজ বেগমের ৪৭৪ শতাংশ জমি ও তিনটি বাড়ি জব্দের আদেশ আদালতের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে শরিয়াহভিত্তিক ঋণ চালুর উদ্যোগে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহর

হাসিনার পালানোর খবরে চট্টগ্রামের রাজপথে নেমে পড়ে জনতা

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫ ২২৭ বার পড়া হয়েছে

বিপিসি ডেস্ক: গত বছরের ৫ আগস্ট দুপুরের আগেই হাসিনা পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে এটিকে কেউ কেউ গুজব বলে ধারণা করেন। কিন্তু দুপুরে টেলিভিশনের স্ক্রলে ভেসে ওঠে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সেনাপ্রধান। তখন লোকজন মোটামুটি নিশ্চিত হয় নিশ্চিত বড় কিছু ঘটেছে। আড়াইটার দিকে খবর আসে প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে গেছেন। ততক্ষণে চট্টগ্রামের অলিগলি থেকে লোকজন বের হতে থাকেন। একপর্যায়ে সড়কগুলো দখলে নেয় ছাত্র-জনতা।

সেদিন চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছিলেন এই প্রতিবেদক। দুপুরের পর জনতার স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মোড়ে মোড়ে চলে মিষ্টি বিতরণ। ফুল বিনিময় করেন অনেকে। বিজয় মিছিলে প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি সংরক্ষণ করেন কেউ কেউ। দীর্ঘদিন ধরে হাসিনার নিপীড়নের শিকার হওয়া লোকজনের কাছে ওইদিন ছিল ঈদের চেয়েও আনন্দের।

শহরের নানা পেশার ও বয়সের মানুষ ওই সময় সড়কে নেমে নিজেদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্ট ভুলে আনন্দ-উল্লাস করেন। তারা মনে করেন, দেশে দীর্ঘসময় ধরে চলমান রাজনৈতিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটেছে।

কিছু জায়গায় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিকেলের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা ঘিরে ফেলেন লোকজন। কোতোয়ালি, পতেঙ্গা, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং ও লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন থানায় আক্রমণ শুরু হয়। এসব থানায় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশের অস্ত্র ও গুলি লুট হয়। এসময় অনেক পুলিশ সদস্য প্রাণ রক্ষায় থানা থেকে পালিয়ে যান। কেউ কেউ পোশাক পরিবর্তন করে জনতার সঙ্গে মিশে যান। এ ছাড়া চট্টগ্রামজুড়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর বাসায় হামলা ও কোনো কোনো বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে বেসরকারি একটি ব্যাংকে কর্মরত মো. সাইফ উদ্দিন বলেন, এক বছর আগে এ দিনে ১৫ বছরের স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটেছিল। মনে হয়েছিল আমরা দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শ্বাস ফিরে পাচ্ছি। তবে আশা করছিলাম হাসিনা পালানোর পর এ দেশটা নতুনভাবে গড়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে থাকা পক্ষগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়েছে। সংস্কার প্রক্রিয়াও ভালোভাবে এগোয়নি। তারপরও আশায় আছি, জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী চেতনায় এ দেশ সামনে এগিয়ে যাবে।

চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সেদিন বিকেলে খবর শুনে আমার মনে হচ্ছিল, আমরা মুক্ত। কখনো আর ভয় পেতে হবে না। রাজনৈতিক কারণে আমার মতো অনেকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেননি। সেদিন লোকজন রাস্তায় নেমেছিল, যেন সব বাঁধন খুলে গেছে।

ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শাখার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি তানজীর হোসেন জুয়েল বলেন, সেদিন আমরা ঘর থেকে বের হয়েছি শহীদ হওয়ার ইচ্ছে নিয়ে। সকাল থেকেই সবাইকে নিয়ে সড়কে অবস্থান নিই। কেউ উত্তর পাহাড়তলী, কেউ অলঙ্কার মোড়, কেউ কাজির দেউড়িতে আলাদা আলাদা দলে ভাগ হয়ে আমরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে দাঁড়িয়ে ছিলাম। প্রতিটি মুহূর্তে প্রস্তুত ছিলাম চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়ার জন্য। দুপুর ১টার পর যখন খবর আসে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছে আমরা কারো মুখের দিকে তাকানোর সুযোগ পাইনি, সবাই চিৎকার করে কাঁদছিল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, এক দফা দাবিতে সকাল থেকে আন্দোলনে ছিলাম। দুপুরে খবর পাই হাসিনা পালিয়েছে। কী আনন্দ, আশপাশের কেউ কেউ আনন্দে কান্না করেছেন। কেউ কেউ হাসিনার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে যাচ্ছিল। সেদিন মুক্তিকামী চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে পড়েছিল।

এ ঘটনাকে স্মরণ করে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে– শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের লোকজনকে ফুল দিয়ে বরণ, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিজেদের মতো করে মিছিল ও সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হাসিনার পালানোর খবরে চট্টগ্রামের রাজপথে নেমে পড়ে জনতা

আপডেট সময় : ১১:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

বিপিসি ডেস্ক: গত বছরের ৫ আগস্ট দুপুরের আগেই হাসিনা পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে এটিকে কেউ কেউ গুজব বলে ধারণা করেন। কিন্তু দুপুরে টেলিভিশনের স্ক্রলে ভেসে ওঠে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সেনাপ্রধান। তখন লোকজন মোটামুটি নিশ্চিত হয় নিশ্চিত বড় কিছু ঘটেছে। আড়াইটার দিকে খবর আসে প্রধানমন্ত্রী থেকে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে গেছেন। ততক্ষণে চট্টগ্রামের অলিগলি থেকে লোকজন বের হতে থাকেন। একপর্যায়ে সড়কগুলো দখলে নেয় ছাত্র-জনতা।

সেদিন চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছিলেন এই প্রতিবেদক। দুপুরের পর জনতার স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মোড়ে মোড়ে চলে মিষ্টি বিতরণ। ফুল বিনিময় করেন অনেকে। বিজয় মিছিলে প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি সংরক্ষণ করেন কেউ কেউ। দীর্ঘদিন ধরে হাসিনার নিপীড়নের শিকার হওয়া লোকজনের কাছে ওইদিন ছিল ঈদের চেয়েও আনন্দের।

শহরের নানা পেশার ও বয়সের মানুষ ওই সময় সড়কে নেমে নিজেদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্ট ভুলে আনন্দ-উল্লাস করেন। তারা মনে করেন, দেশে দীর্ঘসময় ধরে চলমান রাজনৈতিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটেছে।

কিছু জায়গায় পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিকেলের পর চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা ঘিরে ফেলেন লোকজন। কোতোয়ালি, পতেঙ্গা, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং ও লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন থানায় আক্রমণ শুরু হয়। এসব থানায় ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশের অস্ত্র ও গুলি লুট হয়। এসময় অনেক পুলিশ সদস্য প্রাণ রক্ষায় থানা থেকে পালিয়ে যান। কেউ কেউ পোশাক পরিবর্তন করে জনতার সঙ্গে মিশে যান। এ ছাড়া চট্টগ্রামজুড়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীর বাসায় হামলা ও কোনো কোনো বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে বেসরকারি একটি ব্যাংকে কর্মরত মো. সাইফ উদ্দিন বলেন, এক বছর আগে এ দিনে ১৫ বছরের স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটেছিল। মনে হয়েছিল আমরা দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শ্বাস ফিরে পাচ্ছি। তবে আশা করছিলাম হাসিনা পালানোর পর এ দেশটা নতুনভাবে গড়ে উঠবে। কিন্তু বাস্তবে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে থাকা পক্ষগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়েছে। সংস্কার প্রক্রিয়াও ভালোভাবে এগোয়নি। তারপরও আশায় আছি, জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী চেতনায় এ দেশ সামনে এগিয়ে যাবে।

চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সেদিন বিকেলে খবর শুনে আমার মনে হচ্ছিল, আমরা মুক্ত। কখনো আর ভয় পেতে হবে না। রাজনৈতিক কারণে আমার মতো অনেকেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেননি। সেদিন লোকজন রাস্তায় নেমেছিল, যেন সব বাঁধন খুলে গেছে।

ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর শাখার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি তানজীর হোসেন জুয়েল বলেন, সেদিন আমরা ঘর থেকে বের হয়েছি শহীদ হওয়ার ইচ্ছে নিয়ে। সকাল থেকেই সবাইকে নিয়ে সড়কে অবস্থান নিই। কেউ উত্তর পাহাড়তলী, কেউ অলঙ্কার মোড়, কেউ কাজির দেউড়িতে আলাদা আলাদা দলে ভাগ হয়ে আমরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সব পয়েন্টে দাঁড়িয়ে ছিলাম। প্রতিটি মুহূর্তে প্রস্তুত ছিলাম চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়ার জন্য। দুপুর ১টার পর যখন খবর আসে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়েছে আমরা কারো মুখের দিকে তাকানোর সুযোগ পাইনি, সবাই চিৎকার করে কাঁদছিল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, এক দফা দাবিতে সকাল থেকে আন্দোলনে ছিলাম। দুপুরে খবর পাই হাসিনা পালিয়েছে। কী আনন্দ, আশপাশের কেউ কেউ আনন্দে কান্না করেছেন। কেউ কেউ হাসিনার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে যাচ্ছিল। সেদিন মুক্তিকামী চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে পড়েছিল।

এ ঘটনাকে স্মরণ করে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে– শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের লোকজনকে ফুল দিয়ে বরণ, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নিজেদের মতো করে মিছিল ও সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।