বাড়ছে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড; নির্বাচনের আগে উদ্বিগ্ন বিশ্লেষকরা
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
২০২৫ সালে দেশে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। পুলিশ ও মানবাধিকার সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ জন মানুষ খুন হয়েছেন, যা আগের দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর মধ্যে শুধু রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডই একশোর বেশি হওয়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এ ধরনের ধারাবাহিক সহিংসতা নির্বাচনী পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংযম ও ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এক মাস না পেরোতেই ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সহযোদ্ধাদের প্রার্থণার পর শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মতো একই কৌশলে চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদারকে হত্যা করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির খুন হন। একের পর এক এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন দোরগোড়ায়, তখন এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ভোট সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১০২ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে পুলিশ সদরদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব মিলিয়ে গত বছর সারা দেশে মোট ৩ হাজার ৭৮৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫৩টি বেশি।
পুলিশ সদরদপ্তরের মুখপাত্র এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, জাতীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। প্রতিটি ঘটনার তথ্য নিজস্বভাবে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়, যাতে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও কারণ চিহ্নিত করা যায়।
হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে অপরাধ বিশ্লেষকদের মত, এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখার প্রবণতাই অপরাধীদের উৎসাহিত করছে। সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, যারা ব্যবস্থা নেবেন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন, তারাই যদি টার্গেট কিলিংয়ের মতো ঘটনাকে হালকাভাবে দেখেন, তাহলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং আইনের বাইরে থেকে যায়।
সাবেক ডিআইজি সাঈদ হাসান মনে করেন, নির্বাচন সামনে রেখে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে অনিয়ম ও অপরাধের কারণে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি ও এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর দায়িত্ব চাপালে হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকেও সহিংসতা পরিহার করে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। তা না হলে নির্বাচনের আগে সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।




















