গাজীপুরে শতাধিক মাদরাসায় নতুন বছরে পাঠ্যবই না পেয়ে উদ্বেগে শিক্ষার্থীরা
- আপডেট সময় : ০১:১৬:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও গাজীপুর জেলার অধিকাংশ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এখনো পাঠ্যবই না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। জেলার শতাধিক মাদরাসার মধ্যে মাত্র ৮টি প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ শুরু করা গেলেও বাকি মাদরাসাগুলোতে এখনো পাঠ্যবই পৌঁছায়নি। ফলে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলায় স্কুল, মাদরাসা, কারিগরি ও কিন্ডারগার্টেন মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে মাদরাসার সংখ্যা শতাধিক। তবে এখন পর্যন্ত কালিয়াকৈর উপজেলার মাত্র ৮টি মাদরাসায় সীমিত পরিসরে বই বিতরণ করা সম্ভব হয়েছে।
কাপাসিয়া উপজেলার বেলাশী ফাজিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন এবং দাওড়া দাখিল মাদরাসার সুপার জামাল উদ্দিন জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত একটি বইও এখনো পৌঁছায়নি। বইয়ের অভাবে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে এলেও নিয়মিত পাঠদান শুরু করা যাচ্ছে না, যা শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে।
বেলাশী ফাজিল মাদরাসার নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাহবুবুল আলম বলেন, বই না পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিদিন অপেক্ষা করেও বই পাওয়া যাচ্ছে না, কবে বই মিলবে সে বিষয়েও কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। দ্রুত বই সরবরাহ করা না হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আরিফ সরকার জানান, উপজেলায় মোট ৬৭টি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এখনো পাঠ্যবই পায়নি। তবে স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনের ক্ষেত্রে নবম শ্রেণির একটি ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বই ছাড়া অন্যান্য সব বই ইতোমধ্যে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মামুন তালুকদার বলেন, মাদরাসার বেশির ভাগ পাঠ্যবই এখনো জেলা পর্যায়ে এসে পৌঁছায়নি। বই আসা মাত্রই দ্রুত বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি আরও জানান, স্কুল, কারিগরি ও কিন্ডারগার্টেন পর্যায়ে নবম শ্রেণির একটি বই ছাড়া অন্যান্য সব শ্রেণির বই বিতরণ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
এদিকে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই মাদরাসাগুলোতে পাঠ্যবই সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, বিলম্ব দীর্ঘ হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।




















