জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা–চেষ্টা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের
- আপডেট সময় : ১১:০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ধানমন্ডি থানার সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ‘আহতদের খোঁজ না পাওয়া’ এবং অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না মেলার কথা উল্লেখ করে এ সুপারিশ করা হয়েছে বলে ঢাকা মেট্রোপলিন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা গেছে।
মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন— শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ মোট ১১৩ জন। এর আগে গত ৫ নভেম্বর ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার কথা উল্লেখ করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট সীমান্ত স্কয়ার থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার মীনা বাজারের সামনে সাহেদ আলী আহত হন। ওই সময় ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ মোট ৯ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন সাহেদের কথিত ভাই শরীফ।
প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে এবং তদন্তকালে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। তদন্তকালে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা আহত সাহেদ আলীসহ অন্য কথিত আহতদের কোনো সন্ধান পাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আহতদের খোঁজে সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিঠি পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি বাদী শরীফকে নোটিশ দিয়ে তার ভাই সাহেদ আলীকে থানায় হাজির করার অনুরোধ জানানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মামলার তথ্য সংগ্রহের জন্য বাদীর হাজারীবাগের ভাড়া বাসায় নোটিশ পাঠানো হলে বাড়িওয়ালা জানান, শরীফ নামের কোনো ব্যক্তি সেখানে থাকেন না।
পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে জানা যায়, বাদীর প্রকৃত নাম শরিফুল ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকাবাসী তাকে চেনেন না।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাদীর মোবাইল নম্বর অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর মাঝেমধ্যে চালু থাকায় তদন্ত কর্মকর্তা সেখানে যোগাযোগ করেন। কয়েকদিন পর ধানমন্ডি লেকের পাশে বাদী শরীফের সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষাৎ হয়। সে সময় ভুক্তভোগীকে হাজির করা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি তা করেননি। এমনকি এজাহারেও চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
সার্বিকভাবে মামলার অভিযোগের পক্ষে ভুক্তভোগী, চিকিৎসা প্রমাণ ও অন্যান্য সহায়ক তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।



















