ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রায়পুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনায় প্রধান শিক্ষক কারাগারে নোয়াখালীতে জমির বিরোধে বড় ভাইকে কুপিয়ে হত্যা, ছোট ভাই গ্রেপ্তার ডিএসইতে লেনদেন মিশ্র: সূচক সামান্য ওঠানামা করছে ঢাবিতে “শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা-২০২৬” আগামী ১৮–২২ জানুয়ারি মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া দেশের মর্যাদার প্রশ্ন: মির্জা ফখরুল ইসিতে মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল শুনানি চলছে দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী ফাতেমা হত্যাকাণ্ড: সন্দেহভাজন রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার ইরানে বিক্ষোভে ৫ শতাধিক নিহত, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনে মতভেদ গণভোটে ‘না’ ভোটের আহ্বান কৃষক দল নেতা জুয়েল আরমানের বাড়ছে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড; নির্বাচনের আগে উদ্বিগ্ন বিশ্লেষকরা

ইরানে বিক্ষোভে ৫ শতাধিক নিহত, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনে মতভেদ

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১২:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ ক্রমেই ব্যাপক ও সহিংস রূপ নিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটিতে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে— তা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরেই স্পষ্ট মতভেদ দেখা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ও সাইবার ব্যবস্থার পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও আলোচনায় থাকলেও এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বরাতে জানা গেছে, ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সে বিষয়ে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করা হতে পারে। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা জোরদার, সাইবার হামলা এবং সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পর্যায়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া মন্তব্যে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, সম্ভাব্য কোনো হামলার আগে সেনা মোতায়েন ও প্রস্তুতির জন্য আরও সময় প্রয়োজন হবে। তার মতে, শুধু আক্রমণ নয়— ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোরদার করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপের ফলাফল অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে। এতে ইরানের জনগণ সরকারের পক্ষে একত্রিত হয়ে যেতে পারে অথবা পুরো অঞ্চলে পাল্টা হামলা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মূলত গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও রূপ নেয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তেহরানকে বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা না দেখানোর হুঁশিয়ারি দিলেও ইরানি কর্মকর্তারা এসব বক্তব্যকে ‘বেপরোয়া হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের একাধিক আইনপ্রণেতাও প্রশ্ন তুলেছেন— ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আদৌ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভালো পথ কি না। রোববার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল বলেন, “ইরানে বোমা হামলা চালালে সেটি যে কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে, আমি তা নিশ্চিত নই।”

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি এবং বার্তাসংস্থা রয়টার্সও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

রোববার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “সামরিক বাহিনী বিষয়টি পর্যালোচনা করছে, আর আমরা কিছু খুব শক্ত বিকল্প নিয়ে ভাবছি।” তবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ওয়াশিংটনকে ‘ভুল হিসাব’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস কমান্ডার কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে হামলা হলে ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর এটি ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ২৮ ডিসেম্বর আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় শাসকদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে দেশজুড়ে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে জড়িয়ে পড়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইরানে বিক্ষোভে ৫ শতাধিক নিহত, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনে মতভেদ

আপডেট সময় : ১২:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ ক্রমেই ব্যাপক ও সহিংস রূপ নিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটিতে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে— তা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরেই স্পষ্ট মতভেদ দেখা দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ও সাইবার ব্যবস্থার পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও আলোচনায় থাকলেও এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক মহলের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বরাতে জানা গেছে, ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সে বিষয়ে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করা হতে পারে। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা জোরদার, সাইবার হামলা এবং সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পর্যায়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা কম। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া মন্তব্যে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, সম্ভাব্য কোনো হামলার আগে সেনা মোতায়েন ও প্রস্তুতির জন্য আরও সময় প্রয়োজন হবে। তার মতে, শুধু আক্রমণ নয়— ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোরদার করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপের ফলাফল অনাকাঙ্ক্ষিত হতে পারে। এতে ইরানের জনগণ সরকারের পক্ষে একত্রিত হয়ে যেতে পারে অথবা পুরো অঞ্চলে পাল্টা হামলা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মূলত গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র অবমূল্যায়ন ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও রূপ নেয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তেহরানকে বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা না দেখানোর হুঁশিয়ারি দিলেও ইরানি কর্মকর্তারা এসব বক্তব্যকে ‘বেপরোয়া হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের একাধিক আইনপ্রণেতাও প্রশ্ন তুলেছেন— ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আদৌ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভালো পথ কি না। রোববার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান সিনেটর র‍্যান্ড পল বলেন, “ইরানে বোমা হামলা চালালে সেটি যে কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে, আমি তা নিশ্চিত নই।”

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি এবং বার্তাসংস্থা রয়টার্সও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

রোববার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “সামরিক বাহিনী বিষয়টি পর্যালোচনা করছে, আর আমরা কিছু খুব শক্ত বিকল্প নিয়ে ভাবছি।” তবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ওয়াশিংটনকে ‘ভুল হিসাব’ না করার আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক রেভল্যুশনারি গার্ডস কমান্ডার কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে হামলা হলে ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর এটি ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ২৮ ডিসেম্বর আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় শাসকদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। একই সঙ্গে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে দেশজুড়ে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ হয়েছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে জড়িয়ে পড়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।