সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের বড় ধরনের বিমান হামলা
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র বাহিনী। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর আইএসের হামলার জবাবে এই সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১০ জানুয়ারি) পরিচালিত এই হামলাগুলো ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’-এর অংশ হিসেবে চালানো হয়।
বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্যমতে, অভিযানে ২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। এসব বিমান থেকে সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ৩৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ই, এ-১০, এসি-১৩০জে যুদ্ধবিমান ও এমকিউ-৯ ড্রোনের পাশাপাশি জর্ডানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান অংশগ্রহণ করে। তবে হামলাগুলো সিরিয়ার কোন কোন এলাকায় হয়েছে এবং এতে কতজন হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে হামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আমরা কখনো ভুলব না এবং কখনো পিছিয়ে যাব না।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে আইএসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার পালমিরা এলাকায় আইএসের এক হামলায় দুইজন মার্কিন সেনা ও একজন মার্কিন বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। ওই ঘটনার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ শুরু করে। মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ২০ থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে এই অভিযানে মোট ১১টি হামলা চালানো হয়েছে, যাতে প্রায় ২৫ জন আইএস সদস্য নিহত বা আটক হয়েছে।
এর আগে, ১৯ ডিসেম্বর প্রথম দফার অভিযানে মার্কিন ও জর্ডানিয়ান বাহিনী যৌথভাবে মধ্য সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ৭০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। সে সময় ১০০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে সেন্টকম জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর থেকেই সিরিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বিদ্রোহী নেতা আহমেদ আল-শারা, যিনি আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি নামেও পরিচিত, দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে আইএস নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

























