ঢাকা ০৯:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্তরঙ্গ ভিডিও করে টাকা আদায় ছিল উদ্দেশ্য: র‍্যাব

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০২:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ৭৭ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায় করার পরিকল্পনা করেছিল বন্ধু জরেজুল ইসলাম ও তার প্রেমিকা শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুর (৩৩)। র‍্যাব জানায়, এক মাস আগে শামীমা আশরাফুলের সঙ্গে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে ঢাকায় নিয়ে এসে উভয়ে মিলিতভাবে হত্যা করে লাশ ২৬ টুকরা করেন।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩ অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, ১৪ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসামের বড় বিজরা এলাকা থেকে শামীমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ নভেম্বর রাত ৮টায় আশরাফুল তার ব্যবসা সংক্রান্ত পাওনা আদায়ের জন্য জরেজুলের সঙ্গে রংপুর থেকে ঢাকায় যান। পরদিন সকালে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিখোঁজের তথ্য আসে।

১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট সংলগ্ন পানির পাম্পের কাছে দুইটি নীল ড্রামে ২৬ খণ্ড লাশ উদ্ধার করা হয়। আঙ্গুলের ছাপ বিশ্লেষণে লাশ আশরাফুল হকের বলে নিশ্চিত করা হয়। পরে নিহতের বোন শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তার শামীমার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যার কাজে ব্যবহৃত দড়ি, স্কচটেপ, রক্তমাখা পোশাক ও হাফ প্যান্ট উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, জরেজ ও শামীমার এক বছরের বেশি সম্পর্ক। তারা আশরাফুলকে ব্ল্যাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা আদায় করার পরিকল্পনা করেন; জরেজ ৭ লাখ ও শামীমা ৩ লাখ ভাগ পাবেন। শামীমা আশরাফুলকে অচেতন করার জন্য ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করে ভিডিও ধারণ করেন।

গত ১২ নভেম্বর দুপুরে আশরাফুলকে বেঁধে ও মুখ বন্ধ করে জরেজ হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ১৩ নভেম্বর জরেজ চাপাতি ও ড্রাম কিনে লাশ ২৬ টুকরা করে ড্রামে ভরে হাইকোর্ট সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে ফেলে দেন। পরে শামীমা কুমিল্লায় ফিরে যান।

র‍্যাব বলছে, মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়, তবে পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি তদন্তে জানা যাবে। ইতোমধ্যে ডিবি মূল আসামি জরেজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রেমের ফাঁদে ফেলে অন্তরঙ্গ ভিডিও করে টাকা আদায় ছিল উদ্দেশ্য: র‍্যাব

আপডেট সময় : ০২:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায় করার পরিকল্পনা করেছিল বন্ধু জরেজুল ইসলাম ও তার প্রেমিকা শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুর (৩৩)। র‍্যাব জানায়, এক মাস আগে শামীমা আশরাফুলের সঙ্গে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে ঢাকায় নিয়ে এসে উভয়ে মিলিতভাবে হত্যা করে লাশ ২৬ টুকরা করেন।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩ অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, ১৪ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসামের বড় বিজরা এলাকা থেকে শামীমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ নভেম্বর রাত ৮টায় আশরাফুল তার ব্যবসা সংক্রান্ত পাওনা আদায়ের জন্য জরেজুলের সঙ্গে রংপুর থেকে ঢাকায় যান। পরদিন সকালে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিখোঁজের তথ্য আসে।

১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট সংলগ্ন পানির পাম্পের কাছে দুইটি নীল ড্রামে ২৬ খণ্ড লাশ উদ্ধার করা হয়। আঙ্গুলের ছাপ বিশ্লেষণে লাশ আশরাফুল হকের বলে নিশ্চিত করা হয়। পরে নিহতের বোন শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তার শামীমার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যার কাজে ব্যবহৃত দড়ি, স্কচটেপ, রক্তমাখা পোশাক ও হাফ প্যান্ট উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, জরেজ ও শামীমার এক বছরের বেশি সম্পর্ক। তারা আশরাফুলকে ব্ল্যাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা আদায় করার পরিকল্পনা করেন; জরেজ ৭ লাখ ও শামীমা ৩ লাখ ভাগ পাবেন। শামীমা আশরাফুলকে অচেতন করার জন্য ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করে ভিডিও ধারণ করেন।

গত ১২ নভেম্বর দুপুরে আশরাফুলকে বেঁধে ও মুখ বন্ধ করে জরেজ হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ১৩ নভেম্বর জরেজ চাপাতি ও ড্রাম কিনে লাশ ২৬ টুকরা করে ড্রামে ভরে হাইকোর্ট সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে ফেলে দেন। পরে শামীমা কুমিল্লায় ফিরে যান।

র‍্যাব বলছে, মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়, তবে পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি তদন্তে জানা যাবে। ইতোমধ্যে ডিবি মূল আসামি জরেজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।