জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা ঘিরে পদত্যাগ: নেতাদের ফেরাতে তৎপর এনসিপি
- আপডেট সময় : ১১:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে দল থেকে পদত্যাগকারী নেতাদের ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত ১১ দিনে অন্তত ১৬ জন নেতা পদত্যাগ করলেও এখন পর্যন্ত কারও পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, এটি ছিল অনেকের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, আলোচনা হলে তাঁদের একটি অংশ দলে ফিরে আসবেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী মোর্চায় যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় এনসিপি। এর আগের দিন সন্ধ্যায় জামায়াতের সঙ্গে জোটে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেন ৩০ নেতা। একই দিন সন্ধ্যায় এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য তাসনিম জারা।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে কেবল তাসনিম জারাই দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, যার বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন। তাঁর নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত আছেন স্বামী ও এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। একই আসনে এনসিপির পক্ষ থেকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া।
জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনা চলাকালে ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে দল ছাড়েন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক। তিনি দলের জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এ ছাড়া পদত্যাগকারী অন্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও তাজনূভা জাবীন, মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, যুগ্ম সদস্যসচিব আরিফ সোহেল, যুগ্ম সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক আজাদ খান ভাসানী, দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামান, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী, সদস্য সৈয়দা নীলিমা দোলা, আসিফ মোস্তফা জামাল, মীর হাবীব আল মানজুর, মারজুক আহমেদ ও আল আমিন টুটুল।
পদত্যাগের বাইরেও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে দলের ভেতরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অন্তত পাঁচজন নেত্রী এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন—মনিরা শারমিন ও মনজিলা ঝুমা—এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এ পরিস্থিতি নিয়ে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের দুজন নেতা জানান, একসঙ্গে এত নেতার পদত্যাগে নেতৃত্ব কিছুটা বিব্রত ও মানসিক চাপে রয়েছে। দলের মধ্যপন্থী অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এনসিপি, এবি পার্টি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে গঠিত ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনেকে হতাশা প্রকাশ করছেন।
সূত্র জানায়, গত শুক্রবার পদত্যাগকারী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছিল এনসিপি নেতৃত্ব। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক হয়নি। পদত্যাগকারী এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বৈঠকের বিষয়টি আগেভাগেই ফাঁস হয়ে যায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার শুরু হয়। তাঁর অভিযোগ, দলের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে জামায়াতবিরোধী নেতাদের ফেরার প্রক্রিয়া ঠেকাতে চাচ্ছে।
এ বিষয়ে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আশা করি, তাঁদের অনেকে দলে ফিরবেন।’




















