জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা হালনাগাদ: সংখ্যা বাড়িয়ে ২৯৫
- আপডেট সময় : ০৭:২৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় ওষুধের সংখ্যা বাড়িয়ে ২৯৫ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ওষুধ সহজলভ্য হয় এবং ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এই তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হেয়ার রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, “জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের হালনাগাদ তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আজ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এই দুই প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্ত সরাসরি দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্যতা এবং ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
ডা. সায়েদুর রহমান উল্লেখ করেন, ১৯৮২ সালে প্রণীত ওষুধ নীতির মূল লক্ষ্য ছিল দেশীয় ওষুধ শিল্পের বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের কাছে ওষুধ সহজলভ্য করা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৯৯৪ সালে সব ওষুধের ওপর মূল্য নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়ে মাত্র ১১৭টি ওষুধে সীমাবদ্ধ করা হয়। প্রায় তিন দশক ধরে এই কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় নিয়ন্ত্রিত তালিকার বাইরে ওষুধের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০-এ পৌঁছে গেছে। ফলে ওষুধের দামে ব্যাপক বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য খাতে মানুষের মোট ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ওষুধ খাতে ব্যয় হচ্ছে, যার বড় অংশই ব্যক্তিগত পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। দেশের কোনো জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা বা সুরক্ষা কাঠামো না থাকায় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা হালনাগাদ ছাড়া বিকল্প ছিল না।
ডা. সায়েদুর রহমান জানান, নতুন তালিকায় আগের তালিকার তুলনায় ১৩৬টি ওষুধ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ওষুধ সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে হবে এবং এই দামের বাইরে বিক্রি করা যাবে না।
মূল্য নির্ধারণে নির্দিষ্ট ফর্মুলা অনুসরণ করা হবে, যেখানে কাঁচামাল, উৎপাদন ব্যয় এবং প্রচলিত মুনাফার হার বিবেচনা করা হবে। যেসব কোম্পানির বর্তমান মূল্য নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি, তাদের চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে নির্ধারিত মূল্যে নামতে হবে। এছাড়া অত্যাবশ্যক তালিকার বাইরে থাকা ১ হাজারের বেশি ওষুধের ক্ষেত্রে উৎপাদকরা মূল্য প্রস্তাব করবে এবং নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসতে হবে।
নতুন ওষুধ, প্যাটেন্টযুক্ত ওষুধ এবং বায়োলজিক্যাল ওষুধের জন্য আলাদা ফর্মুলা এবং সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত বিকাশমান বায়োলজিক্যাল ওষুধ খাতে গবেষণা ও বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়।
ডা. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে জারি করা হবে। ভবিষ্যতে ওষুধের দাম নির্ধারণ ও নজরদারির জন্য একটি স্বাধীন ‘ন্যাশনাল ড্রাগ প্রাইসিং অথরিটি’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত এই দায়িত্ব পালন করবে ড্রাগ প্রাইস ফিক্সেশন কমিটি।
তিনি আরও বলেন, গত ১৪ মাস ধরে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে উৎপাদক, বিপণনকারী, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধ বিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে এই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার




















