আজ থেকে চালু এনইআইআর, নতুন অবৈধ হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কে ঢুকলেই বন্ধের আওতায়
- আপডেট সময় : ১১:৫০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার থেকে দেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালু হচ্ছে। এর মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে নতুন করে যুক্ত হওয়া অবৈধ বা অনুমোদনহীন হ্যান্ডসেটগুলো শনাক্ত করে ধাপে ধাপে বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলছে, বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানো, চুরি হওয়া ফোন ব্যবহার রোধ এবং গ্রে মার্কেট নিয়ন্ত্রণই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এর আগে একাধিকবার এনইআইআর চালুর সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা হ্যান্ডসেটের আইএমইআই তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। গতকাল সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। এর পরপরই আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা কোনো হ্যান্ডসেট—তা অনুমোদিত হোক বা অননুমোদিত—এই মুহূর্তে বন্ধ করা হবে না। ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা অবিক্রীত যেসব হ্যান্ডসেটের আইএমইআই তালিকা বিটিআরসিতে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য থাকবে।
বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, এনইআইআরের আওতায় কেবল নতুন যেসব ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে, সেগুলোকেই যাচাই করা হবে। অর্থাৎ এখন থেকে নতুন করে অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহার শুরু করলে সেটি শনাক্ত হয়ে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। তারা দেশে ফেরার সময় নিজেদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি আরও দুটি নতুন হ্যান্ডসেট আনতে পারবেন। এসব ফোন এনইআইআরে নিবন্ধনের জন্য তিন মাস সময় পাবেন এবং এই সময়ের মধ্যে হ্যান্ডসেটগুলো সচল থাকবে। ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র দেখিয়ে এনইআইআরে নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জানান, উপদেষ্টা পরিষদ যদি বৃহস্পতিবার হ্যান্ডসেট আমদানি ও উৎপাদন শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলেই এনইআইআর কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়নে কোনো বাধা থাকবে না। এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মোবাইল ফোন বিক্রেতারা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এনইআইআর চালু তিন মাস পিছিয়ে দেওয়ার কথা বললেও বিটিআরসি দাবি করছে, সে সিদ্ধান্ত কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
বিটিআরসি ব্যাখ্যা করেছে, কারিগরিভাবে এনইআইআর আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই—এই তিনটি তথ্য যাচাই করে নেটওয়ার্ক সচল রাখে। এটি কোনোভাবেই কল রেকর্ড করে না, মেসেজ পড়ে না বা ইন্টারনেট কার্যক্রম নজরদারি করে না বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
তবে এনইআইআর একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে ডিভাইস ও সিমকে স্থায়ীভাবে যুক্ত করায় গোপনীয়তা ও নজরদারি নিয়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এনইআইআর নিজে সরাসরি নজরদারির হাতিয়ার না হলেও তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হলে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ—যেমন ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায়—চুরি হওয়া ফোন বন্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু আছে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এনইআইআর ডিজিটাল অর্থনীতিতে জালিয়াতি ও অপরাধ দমনে সহায়ক হতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, এর সাফল্য ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে শক্তিশালী আইনি তদারকি, স্বচ্ছতা, যৌক্তিকতা এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ওপর।
ফয়েজ আহমদ তৈয়ব আরও জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত সংশোধিত টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সিম ও ডিভাইস নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকদের নজরদারি বা হয়রানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এই বিধান লঙ্ঘন করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।



















