ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইসির আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের ডা. শহিদুল আলম ইউএই প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করলেন ২৫ বাংলাদেশিকে, সবাই দেশে ফেরত এনসিপি’র প্রধান সমন্বয়ক আলী হুসাইনসহ ১২ সদস্য পদত্যাগ চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু ১৮ এপ্রিল, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ জরুরি নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানে খেলতে চায় বাংলাদেশ: বিসিবি ভারতের সংবিধান ও হিজাব: রাজনৈতিক তর্কের নতুন অধ্যায় জনগণের শক্তিতেই নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি: রুমিন ফারহানা রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম পর্যালোচনায় সরকারের সভা ১৯ জানুয়ারি বিটিসিএল বাড়াল ইন্টারনেট গতি, মাসিক খরচ অপরিবর্তিত সৌদি, ওমান ও কাতারগামী প্রবাসীদের জন্য নতুন ভিসা যাচাই সেবা ‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপে

খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও কূটনৈতিক বার্তা: দিল্লি–ঢাকা সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০১:৩২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

প্রায় চার বছর পর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানান। শোকবইতে সই করে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন খালেদা জিয়া, যা সব সময় স্মরণ করা হবে। পরে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এ তথ্য জানান রাজনাথ সিং।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সংক্ষিপ্ত ঢাকা সফর এবং তার পরদিনই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাংলাদেশ মিশনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো—এই দুই ঘটনা কূটনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনার ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে দুই দেশের কূটনীতিকদের পাল্টাপাল্টি তলব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এর মধ্যেই প্রায় ১০ দিন আগে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদসহ কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ডাকে প্রতিবাদ মিছিলের আগে ২০ ডিসেম্বর রাতে হাইকমিশনারের বাসভবনের উল্টো পাশে বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। এমনকি হাইকমিশনারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততা বাড়ে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই রাজনাথ সিংয়ের হাইকমিশনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোকে কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দিল্লির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ মিশনের নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আস্থা ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঝটিকা ঢাকা সফর। প্রায় চার ঘণ্টার সফরে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেখা শোকচিঠি তাঁর হাতে তুলে দেন। প্রায় ২০ মিনিটের ওই আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্কের অতীত অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বিএনপির জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোচ্ছে। খালেদা জিয়ার জানাজার প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ দেখাচ্ছে দিল্লি। গত ছয় মাস ধরেই ভারত বলে আসছে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদের সঙ্গেই কাজ করতে আগ্রহী তারা। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ‘যারাই ক্ষমতায় আসবে’—এই বক্তব্যে মূলত বিএনপিকেই ইঙ্গিত করা হচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদির তারেক রহমানকে লেখা চিঠিকেও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই চিঠিতে মোদি খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি এগিয়ে যাবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভারত–বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব আরও সমৃদ্ধ হবে।

ঢাকায় এস জয়শঙ্করের সফর নিয়ে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, এই সফর বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের পাণ্ডুলিপি রচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাস্তবতা ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে স্বার্থনির্ভর সম্পর্ক গড়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বিএনপি ও বিজেপি—দুই দলই যখন নিজ নিজ দেশে ক্ষমতায় ছিল (২০০১–২০০৪), সেই সময়ের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও উঠে আসে। এস জয়শঙ্কর বলেন, ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এবং বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে ভারত।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমবে কি না—এর উত্তর সময়ই দেবে। তাঁর ভাষায়, ‘এর উত্তর আপনাদের আগামী দিনে খুঁজতে হবে। আগামী দিনগুলোতে আপনারা দেখবেন কী হয়।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও কূটনৈতিক বার্তা: দিল্লি–ঢাকা সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত

আপডেট সময় : ০১:৩২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রায় চার বছর পর ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানান। শোকবইতে সই করে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন খালেদা জিয়া, যা সব সময় স্মরণ করা হবে। পরে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এ তথ্য জানান রাজনাথ সিং।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সংক্ষিপ্ত ঢাকা সফর এবং তার পরদিনই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বাংলাদেশ মিশনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো—এই দুই ঘটনা কূটনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও শেখ হাসিনার ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে দুই দেশের কূটনীতিকদের পাল্টাপাল্টি তলব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

এর মধ্যেই প্রায় ১০ দিন আগে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদসহ কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ডাকে প্রতিবাদ মিছিলের আগে ২০ ডিসেম্বর রাতে হাইকমিশনারের বাসভবনের উল্টো পাশে বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। এমনকি হাইকমিশনারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এসব ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততা বাড়ে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই রাজনাথ সিংয়ের হাইকমিশনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোকে কেবল সৌজন্যমূলক নয়, বরং কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দিল্লির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ মিশনের নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে আস্থা ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঝটিকা ঢাকা সফর। প্রায় চার ঘণ্টার সফরে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেখা শোকচিঠি তাঁর হাতে তুলে দেন। প্রায় ২০ মিনিটের ওই আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্কের অতীত অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বিএনপির জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকে মাথায় রেখেই ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোচ্ছে। খালেদা জিয়ার জানাজার প্রেক্ষাপটকে কাজে লাগিয়ে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ দেখাচ্ছে দিল্লি। গত ছয় মাস ধরেই ভারত বলে আসছে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদের সঙ্গেই কাজ করতে আগ্রহী তারা। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ‘যারাই ক্ষমতায় আসবে’—এই বক্তব্যে মূলত বিএনপিকেই ইঙ্গিত করা হচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদির তারেক রহমানকে লেখা চিঠিকেও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই চিঠিতে মোদি খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য তাঁর অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপি এগিয়ে যাবে এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভারত–বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারত্ব আরও সমৃদ্ধ হবে।

ঢাকায় এস জয়শঙ্করের সফর নিয়ে দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, এই সফর বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের পাণ্ডুলিপি রচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাস্তবতা ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে স্বার্থনির্ভর সম্পর্ক গড়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় বিএনপি ও বিজেপি—দুই দলই যখন নিজ নিজ দেশে ক্ষমতায় ছিল (২০০১–২০০৪), সেই সময়ের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও উঠে আসে। এস জয়শঙ্কর বলেন, ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এবং বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে ভারত।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমবে কি না—এর উত্তর সময়ই দেবে। তাঁর ভাষায়, ‘এর উত্তর আপনাদের আগামী দিনে খুঁজতে হবে। আগামী দিনগুলোতে আপনারা দেখবেন কী হয়।’