ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রায় এক দশক পর আইসিজিতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচার শুরু মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর বাছির উদ্দিন জুয়েল আর নেই ইসির আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের ডা. শহিদুল আলম ইউএই প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করলেন ২৫ বাংলাদেশিকে, সবাই দেশে ফেরত এনসিপি’র প্রধান সমন্বয়ক আলী হুসাইনসহ ১২ সদস্য পদত্যাগ চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু ১৮ এপ্রিল, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ জরুরি নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানে খেলতে চায় বাংলাদেশ: বিসিবি ভারতের সংবিধান ও হিজাব: রাজনৈতিক তর্কের নতুন অধ্যায় জনগণের শক্তিতেই নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি: রুমিন ফারহানা রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম পর্যালোচনায় সরকারের সভা ১৯ জানুয়ারি

তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা জোট: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণের ইঙ্গিত

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১২:০২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরব ও পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছে তুরস্ক। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন সামরিক জোটের উত্থান ঘটতে পারে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।

বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গ শুক্রবার জানিয়েছে, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে ভালো পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ত্রিপক্ষীয় এই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা বেশ জোরালো। একই সঙ্গে আংকারা ও রিয়াদের সঙ্গে ইসলামাবাদের সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত মিলছে।

এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান শিগগিরই সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। সুদানের সেনাবাহিনী সৌদি আরব ও তুরস্কের সমর্থনপুষ্ট এবং তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, পাকিস্তান সুদানের সেনাবাহিনীকে ১০টি কারাকোরাম-৮ যুদ্ধবিমান, নজরদারি ও আত্মঘাতী হামলার জন্য ব্যবহৃত ২০০টির বেশি ড্রোন এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আমির মাসুদ জানিয়েছেন, এই চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত এবং এর সঙ্গে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানও যুক্ত হতে পারে।

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে এটি অঞ্চলটির তিনটি প্রভাবশালী দেশকে এক ছাতার নিচে আনবে। তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরব আরব বিশ্বের একমাত্র জি-২০ অর্থনীতি এবং মক্কা ও মদিনার মতো ইসলামের দুই পবিত্র নগরের অধিকারী দেশ। পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। আর এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থলে অবস্থিত তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী।

ইসলামাবাদ ও আংকারা—দুই দেশই বর্তমানে বড় অস্ত্র উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। তুরস্ক ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ড্রোন সরবরাহ করেছে এবং সিরিয়ায় প্রধান সামরিক সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। লিবিয়াতেও দেশটির সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান তার সামরিক সক্ষমতাকে অর্থনৈতিক লাভে রূপ দিতে চাইছে।

এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে পাকিস্তান লিবিয়ার জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির কাছে ১৬টি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানসহ সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির জন্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের চুক্তি করে। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, সৌদি আরব ও পাকিস্তান প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সৌদি ঋণকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে রূপান্তরের বিষয়েও আলোচনা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধবিমান চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে উৎপাদন করে।

ইতিহাসগতভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরব ও তুরস্ক—উভয় দেশেরই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সৌদি আরব ও তুরস্কের সম্পর্ক সব সময় মসৃণ ছিল না। আরব বসন্তের সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যে গণআন্দোলনগুলোকে সমর্থন করেছিলেন, সৌদি আরব সেগুলোকে তাদের রাজতান্ত্রিক শাসনের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছিল। এক দশক আগে লিবিয়ায় তুরস্কের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও ইউএই একজোট হয়েছিল এবং তারা মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকেও সমর্থন দিয়েছিল, যাকে একসময় এরদোয়ান কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন।

তবে সময়ের সঙ্গে আঞ্চলিক সমীকরণ বদলেছে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে হামলা নিয়ে যৌথ উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক চাপের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে নতুন বোঝাপড়া তৈরি হচ্ছে। এর ফলে এরদোয়ান ও সিসির মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হচ্ছে এবং সৌদি আরব ও তুরস্কও ২০২১ সালের পর থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতেও দুই দেশ কৌশলগতভাবে কাছাকাছি এসেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সুদানের গৃহযুদ্ধেও সৌদি আরব ও তুরস্ক একই পক্ষকে সমর্থন করছে।

এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও ইউএইয়ের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বে ফাটল ধরেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইয়েমেনে ইউএই-সমর্থিত দক্ষিণী ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে সৌদি হামলা এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তারই ইঙ্গিত। এসব পরিবর্তনের মধ্যেই তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা জোট: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণের ইঙ্গিত

আপডেট সময় : ১২:০২:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

সৌদি আরব ও পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছে তুরস্ক। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন সামরিক জোটের উত্থান ঘটতে পারে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।

বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গ শুক্রবার জানিয়েছে, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে ভালো পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ত্রিপক্ষীয় এই প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা বেশ জোরালো। একই সঙ্গে আংকারা ও রিয়াদের সঙ্গে ইসলামাবাদের সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত মিলছে।

এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, পাকিস্তান শিগগিরই সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। সুদানের সেনাবাহিনী সৌদি আরব ও তুরস্কের সমর্থনপুষ্ট এবং তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-সমর্থিত আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, পাকিস্তান সুদানের সেনাবাহিনীকে ১০টি কারাকোরাম-৮ যুদ্ধবিমান, নজরদারি ও আত্মঘাতী হামলার জন্য ব্যবহৃত ২০০টির বেশি ড্রোন এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আমির মাসুদ জানিয়েছেন, এই চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত এবং এর সঙ্গে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানও যুক্ত হতে পারে।

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে এটি অঞ্চলটির তিনটি প্রভাবশালী দেশকে এক ছাতার নিচে আনবে। তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরব আরব বিশ্বের একমাত্র জি-২০ অর্থনীতি এবং মক্কা ও মদিনার মতো ইসলামের দুই পবিত্র নগরের অধিকারী দেশ। পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। আর এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থলে অবস্থিত তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী।

ইসলামাবাদ ও আংকারা—দুই দেশই বর্তমানে বড় অস্ত্র উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। তুরস্ক ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ড্রোন সরবরাহ করেছে এবং সিরিয়ায় প্রধান সামরিক সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। লিবিয়াতেও দেশটির সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান তার সামরিক সক্ষমতাকে অর্থনৈতিক লাভে রূপ দিতে চাইছে।

এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গত ডিসেম্বরে পাকিস্তান লিবিয়ার জেনারেল খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির কাছে ১৬টি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানসহ সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির জন্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের চুক্তি করে। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, সৌদি আরব ও পাকিস্তান প্রায় ২০০ কোটি ডলারের সৌদি ঋণকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে রূপান্তরের বিষয়েও আলোচনা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধবিমান চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে উৎপাদন করে।

ইতিহাসগতভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরব ও তুরস্ক—উভয় দেশেরই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সৌদি আরব ও তুরস্কের সম্পর্ক সব সময় মসৃণ ছিল না। আরব বসন্তের সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যে গণআন্দোলনগুলোকে সমর্থন করেছিলেন, সৌদি আরব সেগুলোকে তাদের রাজতান্ত্রিক শাসনের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছিল। এক দশক আগে লিবিয়ায় তুরস্কের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ও ইউএই একজোট হয়েছিল এবং তারা মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকেও সমর্থন দিয়েছিল, যাকে একসময় এরদোয়ান কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন।

তবে সময়ের সঙ্গে আঞ্চলিক সমীকরণ বদলেছে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে হামলা নিয়ে যৌথ উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক চাপের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে নতুন বোঝাপড়া তৈরি হচ্ছে। এর ফলে এরদোয়ান ও সিসির মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হচ্ছে এবং সৌদি আরব ও তুরস্কও ২০২১ সালের পর থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতেও দুই দেশ কৌশলগতভাবে কাছাকাছি এসেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সুদানের গৃহযুদ্ধেও সৌদি আরব ও তুরস্ক একই পক্ষকে সমর্থন করছে।

এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও ইউএইয়ের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বে ফাটল ধরেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইয়েমেনে ইউএই-সমর্থিত দক্ষিণী ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে সৌদি হামলা এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তারই ইঙ্গিত। এসব পরিবর্তনের মধ্যেই তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।