ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেরেবাংলা নগরে জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা, স্বর্ণালংকার ও নগদ লুট গাজীপুরে বিএসটিআইয়ের মোবাইল কোর্ট: অননুমোদিত মানচিহ্ন ব্যবহারে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা কালিগঞ্জে ডিসি আফরোজা আক্তারের হুঁশিয়ারি নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না তরুণদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল ব্যালটে, কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপির নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে অভিনয়ে আলোচনায় আয়েশা তাব্বাসুম ধর্ম ব্যবহার করে ভোট চাওয়া আচরণবিধি লঙ্ঘন: সেলিমা রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব: নাহিদ ইসলাম জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬: নীলফামারীতে মাধ্যমিকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ফাবিহা মাহ্জাবিন রোজা মমতাজ বেগমের ৪৭৪ শতাংশ জমি ও তিনটি বাড়ি জব্দের আদেশ আদালতের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে শরিয়াহভিত্তিক ঋণ চালুর উদ্যোগে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহর

চুরি হয়ে গেল ফেরাউনের স্বর্ণের ব্রেসলেট!

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

মিশরের রাজধানী কায়রোর একটি জাদুঘর থেকে প্রায় তিন হাজার বছর পুরোনো একটি স্বর্ণের ব্রেসলেট নিখোঁজ হয়ে গেছে। ফেরাউন আমেনেমোপের ব্রেসলেট ছিল এটি, যা ল্যাপিস লাজুলি পাথর দিয়ে সজ্জিত ছিল। ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সর্বশেষ জাদুঘরের পুনর্নবীকরণ ল্যাবরেটরিতে এ ব্রেসলেটটি দেখা গিয়েছিল। এই ল্যাবরেটরি থেকেই সেটি নিখোঁজ হয়। মিশরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুরির ঘটনা তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনঅভিযোগ দপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাচার রোধের জন্য দেশের সব বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর কতৃপক্ষের কাছে ব্রেসলেটের ছবি পাঠানো হয়েছে।

জাদুঘরের মহাপরিচালক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ ব্রেসলেটটির যে ছবি ঘুরছে, সেটি আসলে আসল ব্রেসলেটের ছবি নয়। এটি জাদুঘরের আরেকটি প্রদর্শনী ব্রেসলেটের ছবি। এই ভুল ছবির কারণে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ঐতিহাসিকদের তথ্য মতে, ব্রেসলেটটির মালিক ছিলেন ফেরাউন আমেনেমোপ, যিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১০৭৬ থেকে ৭২৩ সালের মধ্যে ২১তম রাজবংশের শাসক ছিলেন। প্রথমে সাধারণ কক্ষে তাকে দাফন করা হলেও পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী শাসক প্রথম পসুসেনেসের পাশে দ্বিতীয়বারের মতো দাফন করা হয়। তার সমাধি ১৯৪০ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ব্রেসলেটটি চুরি হয়ে আন্তর্জাতিক কালোবাজারে চলে যেতে পারে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক প্রত্নতত্ত্ববিদ ক্রিস্টোস সিরোজিয়ানিস এই ধরনের ঘটনার জন্য অবৈধ প্রত্নসম্পদ ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন। তিনি মনে করেন, চোরাকারবারিরা হয়ত ব্রেসলেটটি পাচার করবে, গলিয়ে ফেলবে, বা কোনো ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে তুলে দেবে। তবে এমনও হতে পারে যে, কদিন পর এটি জাদুঘরের আশপাশে ফেলে রাখা অবস্থায় উদ্ধার হবে।

এ ঘটনার পর মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, পুনর্নবীকরণ ল্যাবের সব প্রত্নবস্তু বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ও পর্যালোচনা করা হবে। গত বছরও দুটি চোরাচালানকারীকে আটক করা হয়েছিল, যারা শত শত প্রত্নসম্পদ পাচারের চেষ্টা করছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চুরি হয়ে গেল ফেরাউনের স্বর্ণের ব্রেসলেট!

আপডেট সময় : ০২:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মিশরের রাজধানী কায়রোর একটি জাদুঘর থেকে প্রায় তিন হাজার বছর পুরোনো একটি স্বর্ণের ব্রেসলেট নিখোঁজ হয়ে গেছে। ফেরাউন আমেনেমোপের ব্রেসলেট ছিল এটি, যা ল্যাপিস লাজুলি পাথর দিয়ে সজ্জিত ছিল। ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সর্বশেষ জাদুঘরের পুনর্নবীকরণ ল্যাবরেটরিতে এ ব্রেসলেটটি দেখা গিয়েছিল। এই ল্যাবরেটরি থেকেই সেটি নিখোঁজ হয়। মিশরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুরির ঘটনা তদন্তের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনঅভিযোগ দপ্তরের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাচার রোধের জন্য দেশের সব বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর কতৃপক্ষের কাছে ব্রেসলেটের ছবি পাঠানো হয়েছে।

জাদুঘরের মহাপরিচালক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ ব্রেসলেটটির যে ছবি ঘুরছে, সেটি আসলে আসল ব্রেসলেটের ছবি নয়। এটি জাদুঘরের আরেকটি প্রদর্শনী ব্রেসলেটের ছবি। এই ভুল ছবির কারণে জনমনে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

ঐতিহাসিকদের তথ্য মতে, ব্রেসলেটটির মালিক ছিলেন ফেরাউন আমেনেমোপ, যিনি খ্রিষ্টপূর্ব ১০৭৬ থেকে ৭২৩ সালের মধ্যে ২১তম রাজবংশের শাসক ছিলেন। প্রথমে সাধারণ কক্ষে তাকে দাফন করা হলেও পরবর্তী সময়ে শক্তিশালী শাসক প্রথম পসুসেনেসের পাশে দ্বিতীয়বারের মতো দাফন করা হয়। তার সমাধি ১৯৪০ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ব্রেসলেটটি চুরি হয়ে আন্তর্জাতিক কালোবাজারে চলে যেতে পারে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক প্রত্নতত্ত্ববিদ ক্রিস্টোস সিরোজিয়ানিস এই ধরনের ঘটনার জন্য অবৈধ প্রত্নসম্পদ ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন। তিনি মনে করেন, চোরাকারবারিরা হয়ত ব্রেসলেটটি পাচার করবে, গলিয়ে ফেলবে, বা কোনো ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের কাছে তুলে দেবে। তবে এমনও হতে পারে যে, কদিন পর এটি জাদুঘরের আশপাশে ফেলে রাখা অবস্থায় উদ্ধার হবে।

এ ঘটনার পর মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, পুনর্নবীকরণ ল্যাবের সব প্রত্নবস্তু বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ও পর্যালোচনা করা হবে। গত বছরও দুটি চোরাচালানকারীকে আটক করা হয়েছিল, যারা শত শত প্রত্নসম্পদ পাচারের চেষ্টা করছিল।