নির্বাচনের পর বাংলাদেশ সম্ভাব্য পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরব প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে পারে
- আপডেট সময় : ০৩:২৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আঞ্চলিক কৌশলগত সমীকরণে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে। পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সূত্র zufolge, দুই দেশ ইতিমধ্যেই একটি যৌথ প্রক্রিয়া বা মেকানিজম গড়ে তুলেছে, যার মাধ্যমে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষত ২০২৪ সালের আগস্টে আগের সরকারের পতনের পর এই প্রক্রিয়া আরও গতি পেয়েছে।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই সম্ভাব্য জোটের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এক দেশের ওপর যে কোনো আগ্রাসনকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরাইলকে ঘিরে চলমান সংঘাত, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনাই এই চুক্তির পেছনের মূল কারণ। পাকিস্তানের পারমাণবিক ক্ষমতা এবং সৌদি বাহিনীর জন্য দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এই সহযোগিতাকে কার্যকর কাঠামোয় পরিণত করেছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক পাকিস্তান-সৌদি আরব জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে যৌথ নৌযান নির্মাণ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের আধুনিকায়ন, অন্যদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কও ক্রমবর্ধমানভাবে উন্নত হচ্ছে। তুরস্ক যদি আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়, তবে এই জোটটি একটি শক্তিশালী ত্রিপাক্ষিক সামরিক ব্লকে রূপ নিতে পারে, যার লক্ষ্য হবে অভিন্ন হুমকি মোকাবিলা এবং দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত পারস্পরিক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
বাংলাদেশও পাকিস্তানের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি ঢাকা সফর করেন এবং যৌথ মহড়া ও বিনিময় কর্মসূচি বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছান। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান পাকিস্তান সফরে যান এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও বাস্তব রূপ দেওয়া হয়।
যাইহোক, এই চুক্তি আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে কি না তা largely নির্ভর করছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ওপর। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারই চূড়ান্ত অনুমোদন ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। খসড়া চুক্তি অগ্রগতি পেয়েছে, তবে নতুন সরকারের অগ্রাধিকারই চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করবে। বাংলাদেশের ফোর্সেস গোল ২০৩০ আধুনিকায়ন কর্মসূচির সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য মিলে যাচ্ছে, যেখানে যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রশিক্ষণ সুবিধার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের প্রভাব শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অন্তত আটটি দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে অনুরূপ কৌশলগত ব্যবস্থায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা ইসলামাবাদের বিস্তৃত প্রতিরক্ষা কূটনীতির ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশের সম্ভাব্য জোট অংশগ্রহণ দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য এবং মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর নিরাপত্তা সমন্বয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। তবে ইতিহাসজনিত সংবেদনশীলতার কারণে বিষয়টি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা প্রয়োজন।
নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই নজর রাখা হচ্ছে—বাংলাদেশের নতুন সরকার কোন পথে পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণ করবে এবং আঞ্চলিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন সমীকরণ কী রূপ নেবে।


























