ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেরেবাংলা নগরে জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা, স্বর্ণালংকার ও নগদ লুট গাজীপুরে বিএসটিআইয়ের মোবাইল কোর্ট: অননুমোদিত মানচিহ্ন ব্যবহারে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা কালিগঞ্জে ডিসি আফরোজা আক্তারের হুঁশিয়ারি নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না তরুণদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল ব্যালটে, কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপির নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে অভিনয়ে আলোচনায় আয়েশা তাব্বাসুম ধর্ম ব্যবহার করে ভোট চাওয়া আচরণবিধি লঙ্ঘন: সেলিমা রহমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব: নাহিদ ইসলাম জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬: নীলফামারীতে মাধ্যমিকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ফাবিহা মাহ্জাবিন রোজা মমতাজ বেগমের ৪৭৪ শতাংশ জমি ও তিনটি বাড়ি জব্দের আদেশ আদালতের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে শরিয়াহভিত্তিক ঋণ চালুর উদ্যোগে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহর

ইসরায়েলে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান কারখানায় যুক্তরাষ্ট্রের ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সামরিক সহায়তার সম্ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:৪২:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নির্মাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সামরিক সহায়তা দিতে পারে—এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নথিতে। এই সহায়তা বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সামরিক সহায়তার অঙ্ক আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে নির্মাণাধীন একটি নতুন সাঁজোয়া যান কারখানার অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত থাকতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রতি বছর ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেয়, যা ১০ বছর মেয়াদি একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় নির্ধারিত। সম্ভাব্য নতুন এই অর্থায়ন সেই নির্ধারিত সহায়তার বাইরে অতিরিক্ত হতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাঁচ বছর মেয়াদি ‘আর্মার্ড ভেহিকল অ্যাক্সেলারেশন প্রজেক্ট’-এর আওতায় ইসরায়েল তাদের সাঁজোয়া যান বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি মেরকাভা ট্যাংক এবং নেমার ও এইতান মডেলের সাঁজোয়া যান উৎপাদনের গতি বাড়াতে চায়। এসব সামরিক যান ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত হয় এবং সম্পূর্ণভাবে দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নয়ন করা হয়েছে।

গাজা ও লেবাননে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত আগস্টে ইসরায়েলি সরকারের প্রতিরক্ষা ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। হারেৎজ জানায়, গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স (ইউএসএসিই)-এর দুটি উপস্থাপনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে প্রকল্পটির অর্থায়ন, পরিকল্পনা, নকশা ও নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সম্পৃক্ত থাকতে পারে।

ইউএসএসিই সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য কারিগরি, প্রকৌশল ও নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। এসব প্রকল্পের অর্থায়ন অনেক ক্ষেত্রেই মার্কিন সহায়তা তহবিল থেকে আসে। এর আগে এই সাঁজোয়া যান প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছিল। সে সময় জেরুজালেম পোস্ট জানায়, ঘোষিত পরিকল্পনায় কোনো বিদেশি অর্থায়নের উল্লেখ ছিল না।

উল্লেখ্য, বছরে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের নিয়মিত সামরিক সহায়তার পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা এবং গাজা যুদ্ধ শুরুর পরবর্তী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সরাসরি আরও ২১.৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে বলে জানিয়েছে কুইন্সি ইনস্টিটিউট। এই অঙ্কের মধ্যে ভবিষ্যৎ বছরগুলোতে সরবরাহ ও পরিশোধের জন্য প্রতিশ্রুত অস্ত্র ও সামরিক সেবা বিক্রির চুক্তি অন্তর্ভুক্ত নয়।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্টস অব ওয়ার প্রজেক্ট’-এর হিসাব অনুযায়ী, এসব প্রতিশ্রুত অস্ত্র ও সেবা বিক্রির চুক্তির মূল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে যদি অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা যুক্ত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সমর্থকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মিডল ইস্ট আই–এর মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে তারা হারেৎজ–কে জানিয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক জেএসএমসি কর্মসূচি নেই। ফলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে কর্মসূচিগুলো বিবেচনায় নিচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তাদের কাছেই করা উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইসরায়েলে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান কারখানায় যুক্তরাষ্ট্রের ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সামরিক সহায়তার সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ১১:৪২:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ইসরায়েলে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নির্মাণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সামরিক সহায়তা দিতে পারে—এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর নথিতে। এই সহায়তা বাস্তবায়িত হলে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সামরিক সহায়তার অঙ্ক আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার ইসরায়েলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে নির্মাণাধীন একটি নতুন সাঁজোয়া যান কারখানার অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত থাকতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রতি বছর ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেয়, যা ১০ বছর মেয়াদি একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় নির্ধারিত। সম্ভাব্য নতুন এই অর্থায়ন সেই নির্ধারিত সহায়তার বাইরে অতিরিক্ত হতে পারে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পাঁচ বছর মেয়াদি ‘আর্মার্ড ভেহিকল অ্যাক্সেলারেশন প্রজেক্ট’-এর আওতায় ইসরায়েল তাদের সাঁজোয়া যান বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি মেরকাভা ট্যাংক এবং নেমার ও এইতান মডেলের সাঁজোয়া যান উৎপাদনের গতি বাড়াতে চায়। এসব সামরিক যান ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত হয় এবং সম্পূর্ণভাবে দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নয়ন করা হয়েছে।

গাজা ও লেবাননে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত আগস্টে ইসরায়েলি সরকারের প্রতিরক্ষা ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। হারেৎজ জানায়, গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স (ইউএসএসিই)-এর দুটি উপস্থাপনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে প্রকল্পটির অর্থায়ন, পরিকল্পনা, নকশা ও নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সম্পৃক্ত থাকতে পারে।

ইউএসএসিই সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার জন্য কারিগরি, প্রকৌশল ও নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে। এসব প্রকল্পের অর্থায়ন অনেক ক্ষেত্রেই মার্কিন সহায়তা তহবিল থেকে আসে। এর আগে এই সাঁজোয়া যান প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছিল। সে সময় জেরুজালেম পোস্ট জানায়, ঘোষিত পরিকল্পনায় কোনো বিদেশি অর্থায়নের উল্লেখ ছিল না।

উল্লেখ্য, বছরে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের নিয়মিত সামরিক সহায়তার পাশাপাশি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা এবং গাজা যুদ্ধ শুরুর পরবর্তী দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সরাসরি আরও ২১.৭ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দিয়েছে বলে জানিয়েছে কুইন্সি ইনস্টিটিউট। এই অঙ্কের মধ্যে ভবিষ্যৎ বছরগুলোতে সরবরাহ ও পরিশোধের জন্য প্রতিশ্রুত অস্ত্র ও সামরিক সেবা বিক্রির চুক্তি অন্তর্ভুক্ত নয়।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্টস অব ওয়ার প্রজেক্ট’-এর হিসাব অনুযায়ী, এসব প্রতিশ্রুত অস্ত্র ও সেবা বিক্রির চুক্তির মূল্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। এর সঙ্গে যদি অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা যুক্ত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সমর্থকদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মিডল ইস্ট আই–এর মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে তারা হারেৎজ–কে জানিয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আনুষ্ঠানিক জেএসএমসি কর্মসূচি নেই। ফলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে কর্মসূচিগুলো বিবেচনায় নিচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তাদের কাছেই করা উচিত।