বিয়ের আগে প্রেম করা যাবে কি?
- আপডেট সময় : ০৫:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
পৃথিবীতে মানুষকে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করেই চলতে হয়। এ ছাড়া আছে নারী-পুরুষের প্রাকৃতিক সম্পর্ক। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক কার সঙ্গে কেমন হবে, সে ব্যাপারে ইসলামে পরিপূর্ণরূপে নির্দেশনা রয়েছে। অনেকেই হয়তো নিয়মিত নামাজ পড়ে, রমজানে রোজা রাখে, দ্বীনের ব্যাপারেও খুব আগ্রহী কিন্তু এই একটা জায়গায় এসে আটকে যায়। নারী-পুরুষ সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা তারা মানতে পারছে না।
ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহবহির্ভূত তথাকথিত রিলেশনশিপ বা প্রেমের সম্পর্ক সম্পূর্ণ হারাম। একে অপরের সঙ্গে কামনা-বাসনাসহকারে কথাবার্তা, নির্জনে দেখা-সাক্ষাৎ, ডেটিং, চ্যাটিং, স্পর্শ, হাসাহাসি, দুষ্টামি সবই নিষিদ্ধ। এ রিলেশনশিপ মূলত শয়তানের ফাঁদ। এ ফাঁদে পড়ে নারী-পুরুষ উভয়ে জিনার দিকে ধাবিত হয়—যার পরিণতি খুবই ভয়াবহ।
নারী-পুরুষ পরস্পরের প্রতি দৃষ্টি বিনিময়েও রয়েছে সুস্পষ্ট হুকুম। এ প্রসঙ্গে কোরআনে আল্লাহতায়ালা সুস্পষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করেছেন। পুরুষদের উদ্দেশ করে আল্লাহ বলেন, ‘(হে রাসুল, আপনি) মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ সে ব্যাপারে খবর রাখেন।’ (সুরা নুর, আয়াত : ৩০)
আর নারীদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘(হে রাসুল, আপনি) ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। সাধারণত প্রকাশমান ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বুকের ওপরে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, বাবা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও এমন বালক—যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত অন্য কারও সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। এমনকি তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে’ (সুরা নুর, আয়াত : ৩১)। আল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমরা জিনা-ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।’ (সুরা ইসরা, আয়াত : ৩২)। তবে দয়াময় আল্লাহ বৈধ উপায়ে বিয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ ও জৈবিক চাহিদা মেটানোর সুযোগ দিয়েছেন।
সুতরাং মানুষের কর্তব্য, বিয়ের আগে হারাম সম্পর্কের দিকে পা না বাড়িয়ে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিয়ে করা। তবে হারাম রিলেশন, অবৈধ প্রেম গুনাহের কারণ হলেও তা শিরক, কুফরি বা মুরতাদ হওয়ার মতো গুনাহ নয় যে, এ কারণে তার সব আমল বরবাদ হয়ে যাবে বা তার আমল কবুল হবে না। বরং এ অবস্থায়ও তার সালাত, সিয়াম, দান-সদকা, দোয়া, কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য নেকির কাজ বরবাদ হয়ে যাবে না। বরং এগুলো সে যদি খালেস নিয়তে যথানিয়মে সম্পাদন করে তা হলে মহান আল্লাহ তা কবুল করবেন বলে আশা করা যায়। কিন্তু হারাম রিলেশনের কারণে গুনাহগার হবে।
অনেকেই গুনাহের কারণে আশা হারিয়ে ফেলে যে, অবৈধ গুনাহে যেহেতু লিপ্ত হয়ে পড়েছি, তা হলে ইবাদত করে কী লাভ? এ নিরাশা থেকে তারা ইবাদতও ছেড়ে দেন। এটা ঠিক নয়, ইবাদত অব্যাহত রাখতে হবে, হারাম রিলেশন ছাড়তে হবে এবং অনতিবিলম্বে তওবা করে এ পথ থেকে ফিরে আসতে হবে।





















