ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ রংপুরে যুবদল নেতা আকিবুল রহমান মনুর প্রাণনাশের হুমকি, দল থেকে বহিষ্কার জটিল সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু সাভারের আমিনবাজার থেকে যুবকের খণ্ডিত দেহ উদ্ধার জামালপুরে টিসিবির ১,৪৪৪ লিটার তেল জব্দ, দুইজন আটক ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ, তেলের দাম একদিনে ১০% বেড়ে ৮০ ডলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষককে বর্জনের ঘোষণা, একাডেমিক কমিটিতে সিদ্ধান্ত আজ গাজীপুরে মব হামলা, পুলিশের কাছ থেকে ছিনতাই দুই আসামি পুনরায় গ্রেপ্তার মধ্যপ্রাচ্য সংকটে শাহজালালে ৭৪ ফ্লাইট বাতিল মাহমুদ আহমাদিনেজাদ সুস্থ আছেন, গুজব উড়িয়ে দিলেন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষককে বর্জনের ঘোষণা, একাডেমিক কমিটিতে সিদ্ধান্ত আজ

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়-এর বিরুদ্ধে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ দাবিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের কাছে তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন তারা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তন্ময় সাহা জয় স্নাতক চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশ পর্যন্ত তাদের ব্যাচের কোনো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম—ক্লাস, পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়ন বা পুনর্মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি তাদের ব্যাচের অ্যাকাডেমিক স্বার্থে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সঙ্গে শিক্ষকের কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ নেই। তবে তারা দাবি করেন, শিক্ষক ক্লাস নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন—এ প্রেক্ষাপটে তারা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ১৪ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি রুটিন অনুযায়ী নির্ধারিত ক্লাসে উপস্থিত থাকার নোটিশ দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছুটি ঘোষণা না করায় শিক্ষক ক্লাস নিতে গেলে শ্রেণিকক্ষে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে তিনি কোর্স সমাপ্ত ঘোষণা করে নোটিশ টানান এবং ভবিষ্যতে ওই ব্যাচকে আর কোনো কোর্স না পড়ানোর বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতিকে লিখিতভাবে জানান।

স্মারকলিপি জমাদানকারী শিক্ষার্থী শাহানাজ মুন্নি বলেন, ব্যাচের সবাই মিলে ক্লাসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কয়েকজন উপস্থিত থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ক্লাস সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন। অপর শিক্ষার্থী মাবিয়া জানান, ব্যাচের সমষ্টিগত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আলাদা করে ক্লাসে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে শিক্ষক ক্লাস নেবেন না—এমন কোনো নির্দেশনা তারা পাননি বলেও স্বীকার করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে তন্ময় সাহা জয় বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩০ মার্চের মধ্যে ক্লাস শেষ করার কথা ছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার আগে সিলেবাসের বাকি অংশ শেষ করতে তিনি ক্লাস নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণে তিনি কোর্স সমাপ্ত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ওই ব্যাচকে আর পড়াবেন না বলে বিভাগীয় সভাপতিকে লিখিত দেন।

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি পাওয়া গেছে এবং সোমবার (৩ মার্চ) অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি জানান, কোনো শিক্ষক ক্লাস নিতে চাইলে তাকে বিরত রাখার এখতিয়ার বিভাগীয় সভাপতির নেই। তবে শিক্ষকসংকটের কারণে নতুন করে কোর্স বণ্টন ও পরীক্ষা আয়োজন করলে সময় লাগতে পারে এবং এতে বিভাগের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উভয় পক্ষের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি এখন বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষককে বর্জনের ঘোষণা, একাডেমিক কমিটিতে সিদ্ধান্ত আজ

আপডেট সময় : ১০:২৫:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়-এর বিরুদ্ধে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ দাবিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের কাছে তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেন তারা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তন্ময় সাহা জয় স্নাতক চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশ পর্যন্ত তাদের ব্যাচের কোনো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম—ক্লাস, পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, খাতা মূল্যায়ন বা পুনর্মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারবেন না। পাশাপাশি তাদের ব্যাচের অ্যাকাডেমিক স্বার্থে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সঙ্গে শিক্ষকের কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক বিরোধ নেই। তবে তারা দাবি করেন, শিক্ষক ক্লাস নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন—এ প্রেক্ষাপটে তারা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ১৪ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি রুটিন অনুযায়ী নির্ধারিত ক্লাসে উপস্থিত থাকার নোটিশ দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছুটি ঘোষণা না করায় শিক্ষক ক্লাস নিতে গেলে শ্রেণিকক্ষে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে তিনি কোর্স সমাপ্ত ঘোষণা করে নোটিশ টানান এবং ভবিষ্যতে ওই ব্যাচকে আর কোনো কোর্স না পড়ানোর বিষয়ে বিভাগীয় সভাপতিকে লিখিতভাবে জানান।

স্মারকলিপি জমাদানকারী শিক্ষার্থী শাহানাজ মুন্নি বলেন, ব্যাচের সবাই মিলে ক্লাসে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কয়েকজন উপস্থিত থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ক্লাস সম্ভব নয় বলে তারা মনে করেন। অপর শিক্ষার্থী মাবিয়া জানান, ব্যাচের সমষ্টিগত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আলাদা করে ক্লাসে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তবে শিক্ষক ক্লাস নেবেন না—এমন কোনো নির্দেশনা তারা পাননি বলেও স্বীকার করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে তন্ময় সাহা জয় বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩০ মার্চের মধ্যে ক্লাস শেষ করার কথা ছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার আগে সিলেবাসের বাকি অংশ শেষ করতে তিনি ক্লাস নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণে তিনি কোর্স সমাপ্ত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ওই ব্যাচকে আর পড়াবেন না বলে বিভাগীয় সভাপতিকে লিখিত দেন।

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি পাওয়া গেছে এবং সোমবার (৩ মার্চ) অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি জানান, কোনো শিক্ষক ক্লাস নিতে চাইলে তাকে বিরত রাখার এখতিয়ার বিভাগীয় সভাপতির নেই। তবে শিক্ষকসংকটের কারণে নতুন করে কোর্স বণ্টন ও পরীক্ষা আয়োজন করলে সময় লাগতে পারে এবং এতে বিভাগের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উভয় পক্ষের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি এখন বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।