সাভারের আমিনবাজার থেকে যুবকের খণ্ডিত দেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১১:৩১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীতে বিভিন্ন স্থান থেকে কাটা হাত-পা উদ্ধারের ঘটনায় সাভারের আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদী থেকে এক যুবকের দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১ মার্চ) মতিঝিল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দিনভর অভিযান চালিয়ে সালেপুর ব্রিজের নিচ থেকে মরদেহের অংশগুলো উদ্ধার করে।
আমিনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকির হোসেন জানান, সকালে অভিযান শুরু হলে প্রথমে পেটের নিচের অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বাকি অংশ উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকার সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশন–এর ডুবুরি দলের ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের জানান, ভোরে পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে চার সদস্যের একটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানের শুরুতে কোমরের একটি অংশ পাওয়া যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে পল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের সামনে একটি কাটা পা উদ্ধার করা হয়। পরদিন সকালে বায়তুল মোকাররমের সামনে দুটি হাত, এবং পরে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া হাতের আঙুলের ছাপ যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, খণ্ডিত অংশগুলো ৩০ বছর বয়সী ওবায়দুল্লাহ-এর। তিনি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং একটি হোমিওপ্যাথিক প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর স্কাউট ভবনের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি সাইকেলে এসে কালো পলিথিনে মোড়ানো কিছু ফেলে দ্রুত সরে যায়। ভিডিও বিশ্লেষণে ওই ব্যক্তিকে শাহীন আলম হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত ওবায়দুল্লাহ মতিঝিলের কবি জসীমউদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে হোটেল কর্মচারী শাহীন আলমের সঙ্গে থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন আলম ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে শুক্রবার রাতে ওবায়দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তিনি মরদেহ টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। শাহীন জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তি তাকে এবং তার পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করত। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতিও জব্দ করেছে পুলিশ।
এসআই জাকির হোসেন বলেন, একটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা গেলেও বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে। মরদেহের সব অংশ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।












