হাতিয়ায় বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত, দুই পুলিশ সদস্যও জখম
- আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের নিরাপত্তায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে নির্বাচন-সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। প্রকল্প বাজারে কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত ঘর পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে তার গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার সমর্থক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের সময় স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষ সড়কে অবস্থান নিলে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এমপি হান্নান মাসউদ ঘটনাস্থলের সড়কে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সংঘর্ষে হাতিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক শহীদুল্লাহ ও উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলামসহ বিএনপি ও এনসিপির প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষের দাবি। আহতদের হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে দেখে ফেরার পথে স্থানীয় বেলাল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তার গাড়িবহরের পেছন থেকে হামলা চালানো হয়। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অন্যদিকে চানন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহবুবুর রহমান দাবি করেন, প্রকল্প বাজারে হান্নান মাসউদ উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের পর তার দলের নেতাকর্মীরা প্রথমে বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর করে। পরে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু হলে স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, উভয় পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফাঁকা গুলি ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।





















