ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গরমে বেড়েছে লোডশেডিং, তথ্য গরমিল নিয়ে প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৩:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং, যা শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কোথাও কোথাও দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতির এই চিত্র সরকারি তথ্যে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে। চাহিদা কম দেখিয়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেখানোর অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে।

এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ে। কিন্তু চলতি বছর জ্বালানি সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, কয়লা ও গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, তবে তাপমাত্রা না কমলে সংকট কাটার সম্ভাবনা কম।

বর্তমানে দেশে ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার ২৬৯ মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকটে ১৮টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং আরও ৩৫টি কেন্দ্র আংশিক উৎপাদনে চলছে। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মে চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হলেও গড়ে উৎপাদন হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে।

লোডশেডিংয়ের তথ্য নিয়েও দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের অসঙ্গতি। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও পিডিবির তথ্যের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর তথ্যের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। যেখানে পিজিসিবি ঘাটতি কম দেখাচ্ছে, সেখানে আরইবির তথ্যে অনেক বেশি লোডশেডিংয়ের চিত্র উঠে এসেছে। এতে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী, কৃষক ও শিল্পখাতে। চলমান এসএসসি পরীক্ষা-র সময় লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় বিঘ্নের মুখে পড়ছে। অন্যদিকে কৃষকরা সেচকাজ চালাতে পারছেন না, ফলে ধান উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস ও তেলের সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা, যা এখন আরও প্রকট হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গরমে বেড়েছে লোডশেডিং, তথ্য গরমিল নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৩:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বাড়ছে বিদ্যুতের লোডশেডিং, যা শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কোথাও কোথাও দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতির এই চিত্র সরকারি তথ্যে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না—এমন অভিযোগ উঠেছে। চাহিদা কম দেখিয়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেখানোর অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে।

এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ে। কিন্তু চলতি বছর জ্বালানি সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, কয়লা ও গ্যাস সরবরাহ বাড়িয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে, তবে তাপমাত্রা না কমলে সংকট কাটার সম্ভাবনা কম।

বর্তমানে দেশে ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার ২৬৯ মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকটে ১৮টি কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে এবং আরও ৩৫টি কেন্দ্র আংশিক উৎপাদনে চলছে। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। গ্রীষ্মে চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হলেও গড়ে উৎপাদন হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে।

লোডশেডিংয়ের তথ্য নিয়েও দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের অসঙ্গতি। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও পিডিবির তথ্যের সঙ্গে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর তথ্যের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। যেখানে পিজিসিবি ঘাটতি কম দেখাচ্ছে, সেখানে আরইবির তথ্যে অনেক বেশি লোডশেডিংয়ের চিত্র উঠে এসেছে। এতে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী, কৃষক ও শিল্পখাতে। চলমান এসএসসি পরীক্ষা-র সময় লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় বিঘ্নের মুখে পড়ছে। অন্যদিকে কৃষকরা সেচকাজ চালাতে পারছেন না, ফলে ধান উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস ও তেলের সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা, যা এখন আরও প্রকট হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।