ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইমাম-পুরোহিতসহ ১৬ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে সম্মানি বরাদ্দ

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১২:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, পুরোহিত, যাজকসহ বিভিন্ন পদে নিয়োজিত মোট ১৬ হাজার ৭৮৪ জন ব্যক্তিকে সম্মানি ও উৎসব ভাতা দিতে ২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয় করবে সরকার। পরীক্ষামূলক (পাইলট) প্রকল্পের আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এই বরাদ্দের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একটি সেল গঠন করে এ কর্মসূচির কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হয়।

ওই কার্যপরিধির আলোকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সারাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মসজিদ, প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জা নির্বাচন করে সেখানে কর্মরতদের জন্য মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এই নির্দেশনার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ৪৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩৯৬টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত সম্মানির মধ্যে রয়েছে—মসজিদের ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার ও খাদেম ২ হাজার টাকা; মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার ক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য ৫ হাজার এবং সহকারীদের জন্য ৩ হাজার টাকা করে সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে মসজিদে কর্মরতদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় প্রতিটি ঈদে ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ধর্মের প্রধান উৎসব—দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিনে ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই সরকারি বা দেশি-বিদেশি সংস্থার অনুদান পায়, সেগুলো এই সুবিধার বাইরে থাকবে।

দেশজুড়ে মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৩টি ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সব কর্মরত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তাই বাজেটের ওপর চাপ কমাতে সরকার চার ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে।

পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে মার্চ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত চার মাসের সম্মানি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসব ভাতা দিতে এই ২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়, যা অনুমোদন পেয়েছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত বাজেটে এই অর্থের সংস্থান না থাকায় ‘অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা’ খাত থেকে অর্থ জোগান দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। উপকারভোগীরা যাতে সহজে অর্থ পেতে পারেন, সেজন্য সোনালী ব্যাংকের পাশাপাশি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে সরাসরি টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইমাম-পুরোহিতসহ ১৬ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে সম্মানি বরাদ্দ

আপডেট সময় : ১২:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, পুরোহিত, যাজকসহ বিভিন্ন পদে নিয়োজিত মোট ১৬ হাজার ৭৮৪ জন ব্যক্তিকে সম্মানি ও উৎসব ভাতা দিতে ২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয় করবে সরকার। পরীক্ষামূলক (পাইলট) প্রকল্পের আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এই বরাদ্দের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে একটি সেল গঠন করে এ কর্মসূচির কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হয়।

ওই কার্যপরিধির আলোকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সারাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি করে মসজিদ, প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জা নির্বাচন করে সেখানে কর্মরতদের জন্য মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এই নির্দেশনার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে ৪৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩৯৬টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত সম্মানির মধ্যে রয়েছে—মসজিদের ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার ও খাদেম ২ হাজার টাকা; মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার ক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য ৫ হাজার এবং সহকারীদের জন্য ৩ হাজার টাকা করে সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে মসজিদে কর্মরতদের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় প্রতিটি ঈদে ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য ধর্মের প্রধান উৎসব—দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা ও বড়দিনে ২ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আগে থেকেই সরকারি বা দেশি-বিদেশি সংস্থার অনুদান পায়, সেগুলো এই সুবিধার বাইরে থাকবে।

দেশজুড়ে মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৩টি ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সব কর্মরত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তাই বাজেটের ওপর চাপ কমাতে সরকার চার ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে।

পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে মার্চ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত চার মাসের সম্মানি ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উৎসব ভাতা দিতে এই ২৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানো হয়, যা অনুমোদন পেয়েছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত বাজেটে এই অর্থের সংস্থান না থাকায় ‘অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা’ খাত থেকে অর্থ জোগান দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। উপকারভোগীরা যাতে সহজে অর্থ পেতে পারেন, সেজন্য সোনালী ব্যাংকের পাশাপাশি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে সরাসরি টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।