ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৩:০২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শ্রমিক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হলেও অভিযুক্ত নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ রাতে রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের দক্ষিণ অংশের সামুদাবাদ গ্রামে বিএনপি নেতা সোহরাব হাওলাদারের ছেলের বউভাত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বিচার দাবি করেন।

সোহরাব হাওলাদার অভিযোগ করেন, তার ছেলের বউভাতের অনুষ্ঠানে উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সির নেতৃত্বে একদল লোক উপস্থিত হয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি দাবি করেন, চাঁদা না দিলে অনুষ্ঠান পণ্ড করার হুমকিও দেওয়া হয়। এ সময় সেখানে থাকা তার ভাগনে ও পরিবারের সদস্যদেরও লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে চাঁদা না দেওয়ায় তার ভাগনে সোলাইমান শাকিলসহ কয়েকজনকে গাঁজা সেবনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার নাতি নিবিড় ইসলামসহ মোট চারজন আহত হন। আহতদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে তিনি জানান। এর মধ্যে দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও দুজন এখনো চিকিৎসাধীন আছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সোহরাব হাওলাদার বলেন, তিনি নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে দলের লোকজনই তার কাছে চাঁদা দাবি করেছে এবং পরিবারের অনুষ্ঠান নষ্ট করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো ধরনের চাঁদা দাবির সঙ্গেও তিনি জড়িত নন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে কিছু লোক গাঁজা সেবন করছিল এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি ১১ মার্চের হলেও দীর্ঘ সময় পর সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি রাজনীতির সঙ্গে থাকলেও এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য থাকায় প্রকৃত ঘটনা জানতে প্রশাসনের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:০২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শ্রমিক দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হলেও অভিযুক্ত নেতা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১১ মার্চ রাতে রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের দক্ষিণ অংশের সামুদাবাদ গ্রামে বিএনপি নেতা সোহরাব হাওলাদারের ছেলের বউভাত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে বিচার দাবি করেন।

সোহরাব হাওলাদার অভিযোগ করেন, তার ছেলের বউভাতের অনুষ্ঠানে উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সির নেতৃত্বে একদল লোক উপস্থিত হয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি দাবি করেন, চাঁদা না দিলে অনুষ্ঠান পণ্ড করার হুমকিও দেওয়া হয়। এ সময় সেখানে থাকা তার ভাগনে ও পরিবারের সদস্যদেরও লক্ষ্য করে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে চাঁদা না দেওয়ায় তার ভাগনে সোলাইমান শাকিলসহ কয়েকজনকে গাঁজা সেবনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার নাতি নিবিড় ইসলামসহ মোট চারজন আহত হন। আহতদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে তিনি জানান। এর মধ্যে দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও দুজন এখনো চিকিৎসাধীন আছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সোহরাব হাওলাদার বলেন, তিনি নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তবে দলের লোকজনই তার কাছে চাঁদা দাবি করেছে এবং পরিবারের অনুষ্ঠান নষ্ট করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো ধরনের চাঁদা দাবির সঙ্গেও তিনি জড়িত নন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে কিছু লোক গাঁজা সেবন করছিল এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি ১১ মার্চের হলেও দীর্ঘ সময় পর সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি রাজনীতির সঙ্গে থাকলেও এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য থাকায় প্রকৃত ঘটনা জানতে প্রশাসনের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।