ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হত্যা–চেষ্টা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের প্রায় এক দশক পর আইসিজিতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচার শুরু মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর বাছির উদ্দিন জুয়েল আর নেই ইসির আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের ডা. শহিদুল আলম ইউএই প্রেসিডেন্ট ক্ষমা করলেন ২৫ বাংলাদেশিকে, সবাই দেশে ফেরত এনসিপি’র প্রধান সমন্বয়ক আলী হুসাইনসহ ১২ সদস্য পদত্যাগ চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শুরু ১৮ এপ্রিল, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ জরুরি নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানে খেলতে চায় বাংলাদেশ: বিসিবি ভারতের সংবিধান ও হিজাব: রাজনৈতিক তর্কের নতুন অধ্যায় জনগণের শক্তিতেই নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি: রুমিন ফারহানা

হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভের মুখে এমবিবিএস কোর্সের অনুমতি বাতিল

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৬:১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর টানা বিক্ষোভ ও চাপের মুখে ভারতের একটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করেছে ভারতের জাতীয় মেডিকেল কমিশন (এনএমসি)। অভিযোগ উঠেছে, কলেজটিতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে ভারতজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্স (এসএমভিডিআইএমই)-এ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কলেজটির প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে ভর্তি হওয়া ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জনই ছিলেন মুসলিম। এই বিষয়টি সামনে এনে ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী সংগ্রাম সমিতি’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে প্রায় ৬০টি আরএসএস ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠন আন্দোলনে নামে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে কলেজ ও প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

এরই মধ্যে মোদি সরকার এনএমসির মাধ্যমে কলেজটির এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করে। সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি হিসেবে কলেজটির অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা এবং ক্লিনিক্যাল সুবিধায় গুরুতর ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়। এনএমসি জানায়, চলতি মাসে আকস্মিক পরিদর্শনে এসব ঘাটতি ধরা পড়েছে, যা মেডিকেল শিক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করে না।

তবে এসএমভিডিআইএমই কর্তৃপক্ষ এনএমসির এই প্রতিবেদনকে ‘তথ্যবিরোধী’ ও ‘প্রহসন’ বলে দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, পরিদর্শক দল আগে থেকেই কলেজটি বন্ধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিল, যাতে মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে আন্দোলনকারী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর দাবিকে সন্তুষ্ট করা যায়।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শীর্ষ প্রশাসনের দায় নির্ধারণের দাবি জানান। জম্মুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘যদি মেডিকেল কলেজে সত্যিই ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে জবাব চাইতে হবে। একটি মেডিকেল কলেজ খুললেন, অথচ এনএমসির পরিদর্শনে সেটি পাস করতে পারলো না কেন?’

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাকিনা ইতোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত তাদের নিজ নিজ এলাকার নিকটবর্তী সরকারি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয় এবং তাদের পড়াশোনা যেন ব্যাহত না হয়।

তিনি বলেন, ‘দেশের নানা প্রান্তে মানুষ একটি মেডিকেল কলেজ পাওয়ার জন্য লড়াই করে। আর এখানে আমরা যে মেডিকেল কলেজটি পেয়েছিলাম, সেটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন হয়েছে—এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের শিবসেনা, আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তাদের মতে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভের মুখে এমবিবিএস কোর্সের অনুমতি বাতিল

আপডেট সময় : ০৬:১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর টানা বিক্ষোভ ও চাপের মুখে ভারতের একটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করেছে ভারতের জাতীয় মেডিকেল কমিশন (এনএমসি)। অভিযোগ উঠেছে, কলেজটিতে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে ভারতজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্স (এসএমভিডিআইএমই)-এ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কলেজটির প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে ভর্তি হওয়া ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জনই ছিলেন মুসলিম। এই বিষয়টি সামনে এনে ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী সংগ্রাম সমিতি’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে প্রায় ৬০টি আরএসএস ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠন আন্দোলনে নামে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে কলেজ ও প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

এরই মধ্যে মোদি সরকার এনএমসির মাধ্যমে কলেজটির এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করে। সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি হিসেবে কলেজটির অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা এবং ক্লিনিক্যাল সুবিধায় গুরুতর ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়। এনএমসি জানায়, চলতি মাসে আকস্মিক পরিদর্শনে এসব ঘাটতি ধরা পড়েছে, যা মেডিকেল শিক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করে না।

তবে এসএমভিডিআইএমই কর্তৃপক্ষ এনএমসির এই প্রতিবেদনকে ‘তথ্যবিরোধী’ ও ‘প্রহসন’ বলে দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, পরিদর্শক দল আগে থেকেই কলেজটি বন্ধ করার উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিল, যাতে মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে আন্দোলনকারী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর দাবিকে সন্তুষ্ট করা যায়।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শীর্ষ প্রশাসনের দায় নির্ধারণের দাবি জানান। জম্মুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘যদি মেডিকেল কলেজে সত্যিই ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে জবাব চাইতে হবে। একটি মেডিকেল কলেজ খুললেন, অথচ এনএমসির পরিদর্শনে সেটি পাস করতে পারলো না কেন?’

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাকিনা ইতোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত তাদের নিজ নিজ এলাকার নিকটবর্তী সরকারি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয় এবং তাদের পড়াশোনা যেন ব্যাহত না হয়।

তিনি বলেন, ‘দেশের নানা প্রান্তে মানুষ একটি মেডিকেল কলেজ পাওয়ার জন্য লড়াই করে। আর এখানে আমরা যে মেডিকেল কলেজটি পেয়েছিলাম, সেটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন হয়েছে—এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’

এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে জম্মু ও কাশ্মীরের শিবসেনা, আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তাদের মতে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।