জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব নিয়ে বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৩:২১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাব সম্পর্কিত বিতর্কের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি সাতকানিয়ার চরতী এলাকায় তিনি দাবি করেছেন, তাঁর নামে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই এবং তিনি ব্যাংকে কোনো অর্থ রাখেননি। একই সঙ্গে তিনি নিজেকে নিঃস্ব ও অসহায় বলে উল্লেখ করেছেন। এই বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ড প্রতিবেদনকারীর কাছে রয়েছে।
তবে তাঁর নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না। হলফনামায় দেখা গেছে, শাহজাহান চৌধুরীর হাতে নগদ আছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার ২৫২ টাকা। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকে দুটি অ্যাকাউন্টে মোট ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭১২ টাকা জমা আছে এবং একটি এফডিআর রয়েছে যার পরিমাণ ৬ লাখ ৬৭৬ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর দাখিলে তাঁর সম্পদ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮১০ টাকার। তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
শাহজাহান চৌধুরী তাঁর আয় হিসাবেও বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তিনি কৃষি খাত থেকে বছরে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন। ব্যবসা থেকে তার আয় ৯৬ হাজার ৫৯০ টাকা, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে ৬১ হাজার ৪৭১ টাকা এবং চাকরি থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ৯টি মামলার উল্লেখ রয়েছে।
রাজনীতিতে বিতর্কিত ও প্রভাবশালী শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আসনটি বরাবরই জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জামায়াতের হয়ে লড়বেন। একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শরীফুল আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, রাজনীতিবিদদের কথায় ও কাজে পরিচ্ছন্ন থাকা উচিত। প্রার্থীর সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব নিয়ে এ ধরনের পার্থক্য নির্বাচক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমানে শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর সম্পদ ও অর্থের এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কারণে আসনটি নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।




















