জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগে সব চাকরিপ্রার্থী বাদ
- আপডেট সময় : ০৩:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে না পারায় ৩৮ জন প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি মহল্লাদার পদে নিয়োগের জন্য মোট ৩৮ জন আবেদন করেন। পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। এরপর মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রত্যেককে ১৫ মিনিট সময় দিয়ে জাতীয় সংগীত লিখতে বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউই সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে সক্ষম হননি। ফলে নিয়োগ কমিটি কাউকেই উত্তীর্ণ ঘোষণা করেনি।
এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গ্রাম পুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাধারণ জ্ঞানের মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রশংসাও পাচ্ছেন। প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় পরবর্তীতে পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানা গেছে।
নিয়োগ বাছাই কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে মেধা পরীক্ষায় দেখা যায়, অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কোনো প্রার্থীই জাতীয় সংগীত সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। তিনি বলেন, চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকা আবশ্যক। জাতীয় সংগীতের মতো মৌলিক বিষয়ে প্রার্থীদের এমন অজ্ঞতা উপস্থিত কর্মকর্তাদের হতবাক করেছে।














