ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিজলায় জেলেদের চালে ভাগ বসালেন সচিব: ইউএনও’র নির্দেশে বিতরণ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

​বরিশালের হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ভুক্তভোগীদের দেওয়া হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ কেজি। এছাড়া চাল দেওয়ার সময় বেআইনিভাবে ‘চৌকিদারি ট্যাক্স’ বাবদ ৩০০ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই ইউনিয়নের সচিবের বিরুদ্ধে।সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে চাল বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।​ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। নিয়ম অনুযায়ী কার্ডধারী প্রতিটি জেলে পরিবারের ৮০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু হরিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) উপস্থিত থেকে জেলেদের ওজনে ৫ থেকে ১০ কেজি করে চাল কম দিচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চাল বিতরণের সময় ‘চৌকিদারি ট্যাক্স’ পরিশোধের নামে প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ৩শ টাকা করে আদায় করা হচ্ছিল। সাধারণ জেলেরা ওজনে কম দেওয়া এবং টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সচিব ও তার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। উপস্থিত ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিবাদ করায় তাদেরকে চাল না দিয়ে কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিষদ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।বিষয়টি জানতে পেরে হরিনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম আকন তাৎক্ষণিকভাবে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইলিয়াস শিকদারের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে ওই ইউনিয়নে চাল বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।​ মোঃ ইলিয়াস শিকদার ইউএনও, হিজলা“অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমি চাল বিতরণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি। সরকারি চালে কম দেওয়া বা বিতরণের সময় টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে হরিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লিমনের সাথে মুঠো ফোনে কয়েকবার ফোন দিয়ে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি তিনি ফোনটি রিসিভ না করে বন্ধ করে রেখে দেয়।  পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত চাল বিতরণ বন্ধ থাকবে এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বর্তমানে হরিনাথপুর ইউনিয়নে চাল বিতরণ স্থগিত রয়েছে। শত শত ক্ষুধার্ত জেলে চাল না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জেলেদের হকের চাল যারা আত্মসাৎ করেছে এবং গরিব মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছে, তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হিজলায় জেলেদের চালে ভাগ বসালেন সচিব: ইউএনও’র নির্দেশে বিতরণ বন্ধ

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

​বরিশালের হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতি ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ভুক্তভোগীদের দেওয়া হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ কেজি। এছাড়া চাল দেওয়ার সময় বেআইনিভাবে ‘চৌকিদারি ট্যাক্স’ বাবদ ৩০০ টাকা করে আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই ইউনিয়নের সচিবের বিরুদ্ধে।সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে চাল বিতরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।​ স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত বিশেষ ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। নিয়ম অনুযায়ী কার্ডধারী প্রতিটি জেলে পরিবারের ৮০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু হরিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) উপস্থিত থেকে জেলেদের ওজনে ৫ থেকে ১০ কেজি করে চাল কম দিচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চাল বিতরণের সময় ‘চৌকিদারি ট্যাক্স’ পরিশোধের নামে প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক ৩শ টাকা করে আদায় করা হচ্ছিল। সাধারণ জেলেরা ওজনে কম দেওয়া এবং টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সচিব ও তার অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। উপস্থিত ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিবাদ করায় তাদেরকে চাল না দিয়ে কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিষদ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।বিষয়টি জানতে পেরে হরিনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম আকন তাৎক্ষণিকভাবে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইলিয়াস শিকদারের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে ওই ইউনিয়নে চাল বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।​ মোঃ ইলিয়াস শিকদার ইউএনও, হিজলা“অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমি চাল বিতরণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি। সরকারি চালে কম দেওয়া বা বিতরণের সময় টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে হরিনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লিমনের সাথে মুঠো ফোনে কয়েকবার ফোন দিয়ে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি তিনি ফোনটি রিসিভ না করে বন্ধ করে রেখে দেয়।  পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত চাল বিতরণ বন্ধ থাকবে এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বর্তমানে হরিনাথপুর ইউনিয়নে চাল বিতরণ স্থগিত রয়েছে। শত শত ক্ষুধার্ত জেলে চাল না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জেলেদের হকের চাল যারা আত্মসাৎ করেছে এবং গরিব মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছে, তাদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।