ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহিরপুরে ব্যবসায়ীর কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে গুম ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাহমুদ হাসান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মাহমুদ হাসান উপজেলার চরগাঁও হলহলিয়া গ্রামের আলী আহমদের ছেলে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
প্রতারণার বিবরণ:
অনুসন্ধানে ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যমতে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট এলাকার বাসিন্দা মৃত মারুফ শাহের ছেলে ব্যবসায়ী শাহ রুমান এই ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। শাহ রুমান জানান, সরল বিশ্বাসে কোনো প্রকার দলিলাদি ছাড়াই তিনি বিভিন্ন সময়ে মাহমুদ হাসানকে মোট ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা প্রদান করেন।
এর মধ্যে ২০২৪ সালে ফাজিলপুর রয়েলটি ঘাট বাবদ ৪০ লাখ টাকা, ঢাকার একটি কোম্পানিতে সরবরাহকৃত বালু বাবদ ৬৭ লাখ টাকা এবং সিলেটের বটেশর এলাকায় মাহমুদ হাসানের মালিকানাধীন জায়গা ক্রয়ের কথা বলে আরও ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত মাহমুদ।
হুমকি ও নির্যাতন:
ভুক্তভোগী শাহ রুমান অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে মাহমুদ হাসান তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। রুমান বলেন, “আমি টাকা চাইলে মাহমুদ আমাকে বলে—বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে গুম করে মেরে ফেলব। সে আমাকে উদাহরণ দিয়ে বলে, দিন ইসলাম ও হারুনের যে অবস্থা করেছি, তোরও সেই অবস্থা করব।”
উল্লেখ্য, দিন ইসলাম নামের এক ব্যক্তি (নৌকার সুগানি) মাহমুদ হাসানকে বাকিতে বালু দিয়েছিলেন। পাওনা টাকা নিতে সিলেটে গেলে তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় এবং জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখা হয় বলে শাহ রুমান দাবি করেন, যা তিনি নিজ চোখে দেখেছেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা:
বর্তমানে অভিযুক্তের হুমকির মুখে শাহ রুমান ও তার পরিবার চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। তিনি বলেন, “আমি আমার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে এখন নিঃস্ব। টাকা ফেরত পাওয়া তো দূরের কথা, এখন প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।”
এই পরিস্থিতিতে শাহ রুমান প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং তার পাওনা টাকা উদ্ধারসহ নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ ও জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদ হাসানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তাহিরপুরে ব্যবসায়ীর কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:২৮:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে গুম ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাহমুদ হাসান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মাহমুদ হাসান উপজেলার চরগাঁও হলহলিয়া গ্রামের আলী আহমদের ছেলে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
প্রতারণার বিবরণ:
অনুসন্ধানে ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যমতে জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট এলাকার বাসিন্দা মৃত মারুফ শাহের ছেলে ব্যবসায়ী শাহ রুমান এই ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। শাহ রুমান জানান, সরল বিশ্বাসে কোনো প্রকার দলিলাদি ছাড়াই তিনি বিভিন্ন সময়ে মাহমুদ হাসানকে মোট ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা প্রদান করেন।
এর মধ্যে ২০২৪ সালে ফাজিলপুর রয়েলটি ঘাট বাবদ ৪০ লাখ টাকা, ঢাকার একটি কোম্পানিতে সরবরাহকৃত বালু বাবদ ৬৭ লাখ টাকা এবং সিলেটের বটেশর এলাকায় মাহমুদ হাসানের মালিকানাধীন জায়গা ক্রয়ের কথা বলে আরও ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত মাহমুদ।
হুমকি ও নির্যাতন:
ভুক্তভোগী শাহ রুমান অভিযোগ করেন, পাওনা টাকা ফেরত চাইলে মাহমুদ হাসান তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। রুমান বলেন, “আমি টাকা চাইলে মাহমুদ আমাকে বলে—বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে গুম করে মেরে ফেলব। সে আমাকে উদাহরণ দিয়ে বলে, দিন ইসলাম ও হারুনের যে অবস্থা করেছি, তোরও সেই অবস্থা করব।”
উল্লেখ্য, দিন ইসলাম নামের এক ব্যক্তি (নৌকার সুগানি) মাহমুদ হাসানকে বাকিতে বালু দিয়েছিলেন। পাওনা টাকা নিতে সিলেটে গেলে তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয় এবং জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখা হয় বলে শাহ রুমান দাবি করেন, যা তিনি নিজ চোখে দেখেছেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা:
বর্তমানে অভিযুক্তের হুমকির মুখে শাহ রুমান ও তার পরিবার চরম আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। তিনি বলেন, “আমি আমার শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে এখন নিঃস্ব। টাকা ফেরত পাওয়া তো দূরের কথা, এখন প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।”
এই পরিস্থিতিতে শাহ রুমান প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং তার পাওনা টাকা উদ্ধারসহ নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ ও জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদ হাসানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তার পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।