রাবিতে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:০৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বহিরাগতদের নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত হাসিবুল ইসলাম হাসিব বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী ও প্রক্টর সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২০ এপ্রিল) ক্যাম্পাসের চারুকলা এলাকায় এক শিক্ষার্থী তার বান্ধবীকে নিয়ে বসে থাকাকালে দায়িত্বরত প্রহরী তাদের সরে যেতে বলেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ধারণা করেন, প্রহরী কারও নির্দেশে হয়রানি করেছেন এবং এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে চাঁদাবাজির সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এর আগেও কাপলদের লক্ষ্য করে হয়রানির মাধ্যমে টাকা আদায়ের অভিযোগ শোনা গেছে। ওই ঘটনার পরদিন প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করলেও রাতেই নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী আক্তার, যিনি সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী, জানান— তারা জুসের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় হাসিবকে উত্তেজিত অবস্থায় দৌড়ে আসতে দেখা যায়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে মারামারিতে রূপ নেয়।
ভুক্তভোগী হাসান দাবি করেন, আগের দিন থেকেই হাসিব তাকে ফোনে হুমকি দিচ্ছিল। ঘটনার রাতে তিনি এক চায়ের দোকানে বড় ভাই ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে থাকাকালে হাসিব বহিরাগতদের নিয়ে এসে ছুরি দিয়ে হামলা চালায়। এতে তার সঙ্গে থাকা অন্যরাও আহত হন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার আগে অভিযুক্তরা প্রক্টরকেও হুমকি দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসিবুল ইসলাম হাসিব। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের পর থেকেই তিনি অসুস্থ এবং সেদিন একটি পরীক্ষা দিয়ে বাসায় চলে যান। তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পাসে না গিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দেখেছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, আগের দিনের ঘটনা প্রশাসন সমাধান করলেও তা কেন্দ্র করে নতুন করে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আহত শিক্ষার্থীরা চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীরা প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।




















