ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

আল্লামা সাঈদীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫ ১৯৪ বার পড়া হয়েছে

বিপিসি ডেস্ক: বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন, খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট)।

২০২৩ সালে আজকের এই দিনে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। সেদিন মাওলানা সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী ফেসবুক লেখেন বলেন, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, কোরআনের পাখি ৮টা ৪০ মিনিটে দুনিয়ার সফর শেষ করেছেন।’

আল্লামা সাঈদী গত পাঁচ দশক ধরে দেশ-বিদেশে কোরআনের ভাষ্য তুলে ধরেছেন। তার সুললিত কণ্ঠ, সাহিত্যসম্মত উচ্চারণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণভিত্তিক তাফসির এবং ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের আহ্বানে লাখো মানুষ হয়ে উঠেছিল তার অনুগামী।

১৯৪০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সাঈদখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ। প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা শেষে ১৯৬৪ সালে তিনি মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং এরপর পাঁচ বছর নানা বিষয়ের ওপর গভীর গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।

১৯৬০ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার চার ছেলে- রাফীক, শামীম, মাসুদ ও নাসিম। সকলেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজসেবায় যুক্ত ছিলেন বা আছেন।

১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত দলটির নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর দু’বার পিরোজপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

গ্রেফতার
২০১০ সালের ২৯ জুন তার শহীদবাগের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুরুতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলা, পরে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ২০১৩ সালে ফাঁসির রায় দেয়া হয়। এরপর আপিলে তার রায় কমে হয় যাবজ্জীবন। প্রায় ১৩ বছর কারাবন্দী ছিলেন তিনি।

মৃত্যু
২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট বিকেলে বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে মাওলানা সাঈদীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কাশিমপুর কারাগার থেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এ বন্দি ছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সেখানে থাকা অবস্থায় ১১ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন জামায়াতের এ নেতা। এরপরই তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

তার পরিবার অভিযোগ, তাকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। তার হার্টে রিং, ডায়াবেটিসসহ একাধিক রোগ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়নি। মৃত্যুর দিন কারাগার থেকে গাজীপুর, সেখান থেকে ঢাকায় নেয়ার সময় সিসিইউ সাপোর্টহীন অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়।

দাফন
দু’দফা নামাজে জানাজা শেষে নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান মাওলানা সাঈদী ফাউন্ডেশনের বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে দাফন করা হয় তাকে। সাঈদী ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত তার প্রথম নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তার দ্বিতীয় ছেলে শামীম বিন সাঈদীর ইমামতিতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশে-বিদেশে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে নিজের প্রতিষ্ঠিত সাঈদী ফাউন্ডেশনের বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে দাফন করা হয়। এখানেই তার ছোট ভাই হুমায়ুন কবীর সাঈদী এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র মাওলানা রাফিক বিন সাঈদীর কবর রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আল্লামা সাঈদীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় : ০১:৪৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

বিপিসি ডেস্ক: বিশ্ববরেণ্য আলেমে দ্বীন, খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামী চিন্তাবিদ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট)।

২০২৩ সালে আজকের এই দিনে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। সেদিন মাওলানা সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী ফেসবুক লেখেন বলেন, ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, কোরআনের পাখি ৮টা ৪০ মিনিটে দুনিয়ার সফর শেষ করেছেন।’

আল্লামা সাঈদী গত পাঁচ দশক ধরে দেশ-বিদেশে কোরআনের ভাষ্য তুলে ধরেছেন। তার সুললিত কণ্ঠ, সাহিত্যসম্মত উচ্চারণ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণভিত্তিক তাফসির এবং ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের আহ্বানে লাখো মানুষ হয়ে উঠেছিল তার অনুগামী।

১৯৪০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সাঈদখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মাওলানা ইউসুফ সাঈদী ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ। প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা শেষে ১৯৬৪ সালে তিনি মাদরাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং এরপর পাঁচ বছর নানা বিষয়ের ওপর গভীর গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।

১৯৬০ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার চার ছেলে- রাফীক, শামীম, মাসুদ ও নাসিম। সকলেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজসেবায় যুক্ত ছিলেন বা আছেন।

১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং ২০০৯ সাল পর্যন্ত দলটির নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে পরপর দু’বার পিরোজপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

গ্রেফতার
২০১০ সালের ২৯ জুন তার শহীদবাগের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুরুতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলা, পরে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ২০১৩ সালে ফাঁসির রায় দেয়া হয়। এরপর আপিলে তার রায় কমে হয় যাবজ্জীবন। প্রায় ১৩ বছর কারাবন্দী ছিলেন তিনি।

মৃত্যু
২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট বিকেলে বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে মাওলানা সাঈদীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কাশিমপুর কারাগার থেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এ বন্দি ছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সেখানে থাকা অবস্থায় ১১ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন জামায়াতের এ নেতা। এরপরই তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

তার পরিবার অভিযোগ, তাকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। তার হার্টে রিং, ডায়াবেটিসসহ একাধিক রোগ থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হয়নি। মৃত্যুর দিন কারাগার থেকে গাজীপুর, সেখান থেকে ঢাকায় নেয়ার সময় সিসিইউ সাপোর্টহীন অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়।

দাফন
দু’দফা নামাজে জানাজা শেষে নিজের গড়া প্রতিষ্ঠান মাওলানা সাঈদী ফাউন্ডেশনের বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে দাফন করা হয় তাকে। সাঈদী ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত তার প্রথম নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তার দ্বিতীয় ছেলে শামীম বিন সাঈদীর ইমামতিতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশে-বিদেশে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে নিজের প্রতিষ্ঠিত সাঈদী ফাউন্ডেশনের বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে দাফন করা হয়। এখানেই তার ছোট ভাই হুমায়ুন কবীর সাঈদী এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র মাওলানা রাফিক বিন সাঈদীর কবর রয়েছে।