ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

সোনালি মুকুলে ছেয়ে গেছে কালিগঞ্জ, দক্ষিণা বাতাসে দোল খাচ্ছে চাষিদের স্বপ্ন

হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে আমের মুকুলে এখন মৌমাছিদের গুঞ্জন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জাদুর মত কাছে টানছে তাদের। ছুটেছে আমের মুকুলে ,ছড়াচ্ছে সুবাসিত ঘ্রাণ। কবির ভাষায ফাগুনে বিকাশিত কাঞ্চন, ফুল ডালে ডালে পুণজিৎ আমের মুকুল। বনে বনে ফুল ফুটেছে দোলে নতুন পাতা। এজন্য বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ১২ টি ইউনিয়নের গ্রামের আম গাছগুলোতে এর মধ্যে মুকুলে ভরে গেছে। নানা ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। শীত মুগ্ধতার মধ্যেই ছড়াচ্ছে সোনালি মুকুল। বছর ঘুরে আবারো তাই মুকুলে বছর ঘুরে আবারো মুকূলে ভরে উঠেছে আম প্রেমীদের মন। এবার সময়ের আগেই মুকুলে ভরে গেছে কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে , ভরে গেছে গ্রাম গুলোর আমবাগান গুলো । এবার কুয়াশা বিহীন মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মৌসুমী স্বপ্নে ভাসছেন আম চাষীরা। বাগানের সারি সারি গাছে ধরেছে আমের মুকুল। সুরভিত মুকুলের গন্ধে পাল্টিয়ে দিয়েছে অঞ্চলের বাতাস। তাই দক্ষিণা বাতাসে দোল খাচ্ছে আম চাষীদের স্বপ্ন। আশার আলো জাগিয়েছেন আম বাগান গুলোতে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা ঘুরে বিষ্ণুপুর গ্রামে গেলে আম চাষী, কৃষক পীযূষ কান্তি রায় বলেন তার ৩ বিঘা জমিতে দেড় শতাধিক গাছ রয়েছে। এবার মাঘ মাসের প্রথম থেকেই আমগাছ ভরে মুকুল ধরেছে। কুয়াশা না থাকায় এবার মুকুল ঝরে না যাওয়ায় আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। বালিয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর গ্রামের তপন সরকার বলেন, গাছে যে পরিমাণ মুকুল ধরেছে তাতে মৌমাছি বসায় তাড়াতাড়ি গুটি ধরছে। গুটি যাহাতে ঝরে না যায় সেজন্য গাছের গোড়ায় জল দেওয়ার পাশাপাশি স্প্রে করে হরমোন ও ডিডিটি দেওয়া হচ্ছে। তার বাগানে হিমসাগর, লেংড়া, গোপালভোগ ,আমরুপালি আম রয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে গতবারের তুলনায় এবার ফলন অনেক বেশি হবে বলে আশা করছি। মৌতলা গ্রামের আম চাষী মুজাহিদ, আজহার, শংকর দে সহ একাধিক কৃষক বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়া ও শীত কম পড়ায় এবার আমের ফলন বেশি হবে। তাছাড়া বিদেশে আম পাঠানোর নামে তারা যে প্রস্তুতি নেন বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনা। তার জন্য অন্যতম কারণ অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে। ফলে কৃষি বিভাগের সুপারিশক্রমে অধিক খরচ করে বিদেশে আম পাঠাতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আম চাষিরা। নলতার বাগবাটি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সুবাহান বলেন তাদের ৫ বিঘা জমিতে ৩ শতাধিক আম গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি। কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আম বাগানের পরিচর্যা করা হয়েছে এখন আশায় বসে আছি। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বর্ষা বা ঝড় না হয় তাহলে কৃষকরা লাভবান হবে। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলম জানান এবার উপজেলা জুড়ে শীতে কুয়াশা না পড়ায় যে পরিমাণ আমের মুকুল এসেছে সে পরিমাণ ফলন হলে কৃষকরা এবার বাজিমাত করে দিতে পারে। তবে আমরাও কৃষকদের পাশে থেকে সব সময় পরিচর্যা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে ফলন বেশি হবে বলে আশা করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সোনালি মুকুলে ছেয়ে গেছে কালিগঞ্জ, দক্ষিণা বাতাসে দোল খাচ্ছে চাষিদের স্বপ্ন

আপডেট সময় : ০৮:১৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে আমের মুকুলে এখন মৌমাছিদের গুঞ্জন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জাদুর মত কাছে টানছে তাদের। ছুটেছে আমের মুকুলে ,ছড়াচ্ছে সুবাসিত ঘ্রাণ। কবির ভাষায ফাগুনে বিকাশিত কাঞ্চন, ফুল ডালে ডালে পুণজিৎ আমের মুকুল। বনে বনে ফুল ফুটেছে দোলে নতুন পাতা। এজন্য বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ১২ টি ইউনিয়নের গ্রামের আম গাছগুলোতে এর মধ্যে মুকুলে ভরে গেছে। নানা ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। শীত মুগ্ধতার মধ্যেই ছড়াচ্ছে সোনালি মুকুল। বছর ঘুরে আবারো তাই মুকুলে বছর ঘুরে আবারো মুকূলে ভরে উঠেছে আম প্রেমীদের মন। এবার সময়ের আগেই মুকুলে ভরে গেছে কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে , ভরে গেছে গ্রাম গুলোর আমবাগান গুলো । এবার কুয়াশা বিহীন মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মৌসুমী স্বপ্নে ভাসছেন আম চাষীরা। বাগানের সারি সারি গাছে ধরেছে আমের মুকুল। সুরভিত মুকুলের গন্ধে পাল্টিয়ে দিয়েছে অঞ্চলের বাতাস। তাই দক্ষিণা বাতাসে দোল খাচ্ছে আম চাষীদের স্বপ্ন। আশার আলো জাগিয়েছেন আম বাগান গুলোতে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা ঘুরে বিষ্ণুপুর গ্রামে গেলে আম চাষী, কৃষক পীযূষ কান্তি রায় বলেন তার ৩ বিঘা জমিতে দেড় শতাধিক গাছ রয়েছে। এবার মাঘ মাসের প্রথম থেকেই আমগাছ ভরে মুকুল ধরেছে। কুয়াশা না থাকায় এবার মুকুল ঝরে না যাওয়ায় আমের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। বালিয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর গ্রামের তপন সরকার বলেন, গাছে যে পরিমাণ মুকুল ধরেছে তাতে মৌমাছি বসায় তাড়াতাড়ি গুটি ধরছে। গুটি যাহাতে ঝরে না যায় সেজন্য গাছের গোড়ায় জল দেওয়ার পাশাপাশি স্প্রে করে হরমোন ও ডিডিটি দেওয়া হচ্ছে। তার বাগানে হিমসাগর, লেংড়া, গোপালভোগ ,আমরুপালি আম রয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে গতবারের তুলনায় এবার ফলন অনেক বেশি হবে বলে আশা করছি। মৌতলা গ্রামের আম চাষী মুজাহিদ, আজহার, শংকর দে সহ একাধিক কৃষক বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়া ও শীত কম পড়ায় এবার আমের ফলন বেশি হবে। তাছাড়া বিদেশে আম পাঠানোর নামে তারা যে প্রস্তুতি নেন বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনা। তার জন্য অন্যতম কারণ অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে। ফলে কৃষি বিভাগের সুপারিশক্রমে অধিক খরচ করে বিদেশে আম পাঠাতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আম চাষিরা। নলতার বাগবাটি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সুবাহান বলেন তাদের ৫ বিঘা জমিতে ৩ শতাধিক আম গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছে আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি। কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আম বাগানের পরিচর্যা করা হয়েছে এখন আশায় বসে আছি। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বর্ষা বা ঝড় না হয় তাহলে কৃষকরা লাভবান হবে। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সুপারভাইজার জাহাঙ্গীর আলম জানান এবার উপজেলা জুড়ে শীতে কুয়াশা না পড়ায় যে পরিমাণ আমের মুকুল এসেছে সে পরিমাণ ফলন হলে কৃষকরা এবার বাজিমাত করে দিতে পারে। তবে আমরাও কৃষকদের পাশে থেকে সব সময় পরিচর্যা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে ফলন বেশি হবে বলে আশা করছি।