ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের উগ্র আচরণের অভিযোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিব্রত

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)-এর ছাত্র সংসদ (রাকসু)-র জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের শারীরিক ভাষা, আচরণ ও ভাষণ-বচনের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শিষ্টাচারবহির্ভূতভাবে তুচ্ছ বিষয় নিয়েও উসকানি সৃষ্টি করেন, কাউকেই তোয়াক্কা করেন না এবং মাঝে মাঝে হুমকি ও চরম আচরণ দেখান।

সম্প্রতি রাকসু ভবনে ছাত্র অধিকার পরিষদের রাবি শাখার সভাপতি মেহেদী মারুফসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আম্মার তুমুল বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তিনি চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে ওঠেন, তর্জনী উঁচিয়ে হুমকি দেন এবং উপস্থিতদের ভয় দেখান। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

মেহেদী মারুফ অভিযোগ করেন, আম্মারের আচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিরক্ত ও নিরাপদ বোধ করেন না। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আম্মারের একটি সক্রিয় বট বাহিনী রয়েছে, যা অসন্তোষ প্রকাশকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়াও, আম্মারের ভাষায় অনৈতিক ও ইতর মন্তব্য, যেমন ‘মালখোর’, ‘চোদনা’ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

রাকসু জিএস আম্মার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা মিডিয়া আকর্ষণ পেতে বিষয়গুলো বাড়াচ্ছেন।

শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বলছেন, আম্মারের আচরণ সাধারণ ছাত্র নেতার স্বভাবের বাইরে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে। জুলাই আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় তিনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বিশেষ করে পোষ্য কোটা বিরোধ ও উপ-উপাচার্যকে শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় রাবি প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, কিন্তু এখনও কোনো প্রতিবেদন প্রদান হয়নি।

রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান জানান, কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পরই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, যথাযথ শাস্তি কার্যকর হলে ক্যাম্পাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের উগ্র আচরণের অভিযোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিব্রত

আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)-এর ছাত্র সংসদ (রাকসু)-র জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের শারীরিক ভাষা, আচরণ ও ভাষণ-বচনের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি শিষ্টাচারবহির্ভূতভাবে তুচ্ছ বিষয় নিয়েও উসকানি সৃষ্টি করেন, কাউকেই তোয়াক্কা করেন না এবং মাঝে মাঝে হুমকি ও চরম আচরণ দেখান।

সম্প্রতি রাকসু ভবনে ছাত্র অধিকার পরিষদের রাবি শাখার সভাপতি মেহেদী মারুফসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আম্মার তুমুল বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তিনি চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে ওঠেন, তর্জনী উঁচিয়ে হুমকি দেন এবং উপস্থিতদের ভয় দেখান। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

মেহেদী মারুফ অভিযোগ করেন, আম্মারের আচরণের কারণে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিরক্ত ও নিরাপদ বোধ করেন না। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আম্মারের একটি সক্রিয় বট বাহিনী রয়েছে, যা অসন্তোষ প্রকাশকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এছাড়াও, আম্মারের ভাষায় অনৈতিক ও ইতর মন্তব্য, যেমন ‘মালখোর’, ‘চোদনা’ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

রাকসু জিএস আম্মার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা মিডিয়া আকর্ষণ পেতে বিষয়গুলো বাড়াচ্ছেন।

শিক্ষক ও কর্মকর্তারা বলছেন, আম্মারের আচরণ সাধারণ ছাত্র নেতার স্বভাবের বাইরে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে। জুলাই আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় তিনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বিশেষ করে পোষ্য কোটা বিরোধ ও উপ-উপাচার্যকে শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় রাবি প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, কিন্তু এখনও কোনো প্রতিবেদন প্রদান হয়নি।

রাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান জানান, কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পরই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, যথাযথ শাস্তি কার্যকর হলে ক্যাম্পাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরবে।