ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি, ৬০৪ কোটি টাকায় টিকাদান ও চিকিৎসা জোরদার

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

দেশে হামের (মিজেলস) সংক্রমণ হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের টিকা ক্রয়ের জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) থেকে এই টিকা সংগ্রহ করা হবে এবং আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতির কাজ চলছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা এবং ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা একটি আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতে নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চললেও ২০১৮ সালের পর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের প্রকোপ বেশি। তাই দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।”

সরকার ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং ইউনিসেফকে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশে টিকা পৌঁছানো শুরু হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম চালু হবে।

স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, টিকার অর্থ ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে প্রদান করা হয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদন মিললে দ্রুত টিকা দেশে আনা হবে এবং দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

একই সঙ্গে টিকা কমিটি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, যাতে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি, ৬০৪ কোটি টাকায় টিকাদান ও চিকিৎসা জোরদার

আপডেট সময় : ০২:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

দেশে হামের (মিজেলস) সংক্রমণ হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের টিকা ক্রয়ের জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) থেকে এই টিকা সংগ্রহ করা হবে এবং আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতির কাজ চলছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা এবং ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা একটি আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতে নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চললেও ২০১৮ সালের পর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের প্রকোপ বেশি। তাই দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।”

সরকার ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং ইউনিসেফকে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই দেশে টিকা পৌঁছানো শুরু হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম চালু হবে।

স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, টিকার অর্থ ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে প্রদান করা হয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত অনুমোদন মিললে দ্রুত টিকা দেশে আনা হবে এবং দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

একই সঙ্গে টিকা কমিটি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, যাতে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা যায়।