ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৭:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া জেলায় হামের (মিজেলস) প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন শিশুকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলায় অন্তত এক শিশুর শরীরে রোগ নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে শিশুদের জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গে মোট ২০৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। নিশ্চিত আক্রান্ত বা হোম সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১১। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার নাসরিন আক্তার জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ৯০ শতাংশ শিশু বয়স ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে কুমারখালী ও দৌলতপুর উপজেলা হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগী চাপ বেড়ে শয্যা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একাধিক বিছানায় দুই শিশু রাখা হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অধিকাংশই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরে ফোটা ফোটা র‍্যাশে ভুগছে। রোগীদের পরিবার অভিযোগ করেছেন, হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, অক্সিজেন সরবরাহ ও সিরিঞ্জ কিনতেও অনেককে বাইরে থেকে নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকের রাউন্ড দিনে একবার সীমিত।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম জানান, হাসপাতালের অক্সিজেন সরঞ্জাম আছে, তবে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট নেই। বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় তিনজন শিশু তিনজন চিকিৎসক ও তিন নার্সের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, হামের টিকা পর্যাপ্তভাবে মজুত নেই। সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতার ঘাটতি এবং বাইরের জেলায় কাজ করা মানুষদের ফেরার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য সব হাসপাতালে আলাদা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে এবং টিকা হাতে পাওয়া মাত্র দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট সময় : ০৭:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া জেলায় হামের (মিজেলস) প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন শিশুকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলায় অন্তত এক শিশুর শরীরে রোগ নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে শিশুদের জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত জেলায় হামের উপসর্গে মোট ২০৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। নিশ্চিত আক্রান্ত বা হোম সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১১। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার নাসরিন আক্তার জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ৯০ শতাংশ শিশু বয়স ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে। জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে কুমারখালী ও দৌলতপুর উপজেলা হামের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগী চাপ বেড়ে শয্যা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। একাধিক বিছানায় দুই শিশু রাখা হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অধিকাংশই জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরে ফোটা ফোটা র‍্যাশে ভুগছে। রোগীদের পরিবার অভিযোগ করেছেন, হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, অক্সিজেন সরবরাহ ও সিরিঞ্জ কিনতেও অনেককে বাইরে থেকে নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকের রাউন্ড দিনে একবার সীমিত।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম জানান, হাসপাতালের অক্সিজেন সরঞ্জাম আছে, তবে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট নেই। বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় তিনজন শিশু তিনজন চিকিৎসক ও তিন নার্সের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, হামের টিকা পর্যাপ্তভাবে মজুত নেই। সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতার ঘাটতি এবং বাইরের জেলায় কাজ করা মানুষদের ফেরার কারণে সংক্রমণ বাড়ছে। জেলায় হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য সব হাসপাতালে আলাদা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে এবং টিকা হাতে পাওয়া মাত্র দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।