ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্টেমিস–২ মিশনের নভোচারীরা চাঁদের আড়ালে: পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

নাসার আর্টেমিস–২ মিশনের চারজন নভোচারী বর্তমানে পৃথিবীর যেকোনো মানুষের চেয়ে সবচেয়ে দূরবর্তী অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাঁরা এতটাই দূরে আছেন যে, তাঁদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর আকার ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। এ সময়ও তারা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখেছেন।

কিন্তু আজ সোমবার (যুক্তরাজ্যের সময় রাত ১১টা ৪৭ মিনিট, বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট) নভোচারীরা যখন চাঁদের পেছনের দিকে চলে যাবেন, তখন পৃথিবীর সঙ্গে তাদের রেডিও ও লেজার সংকেতের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। মহাকাশযান চাঁদের অদৃশ্য পাশে অবস্থান করবে, তাই চাঁদের অবস্থান মহাকাশযান ও পৃথিবীর মধ্যে সংকেত পৌঁছাতে বাধা দেবে। এই অবস্থায় নভোচারীরা প্রায় ৪০ মিনিট সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ থাকবেন।

নভোযানে থাকা ওরিয়ন পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, এই সময়কে বিশ্ববাসীর জন্য একত্র হওয়ার সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “যখন আমরা চাঁদের আড়ালে থাকব, তখন আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং শুভকামনা রাখুন যেন আমরা আবারও যোগাযোগ করতে পারি।”

এর আগেও ৫০ বছরের বেশি আগে অ্যাপোলো মিশনের নভোচারীরা একই ধরনের একাকিত্বের অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন। বিশেষ করে অ্যাপোলো ১১ মিশনের পাইলট মাইকেল কলিন্স চাঁদের পেছনের অংশ ঘুরতে থাকাকালীন প্রায় ৪৮ মিনিট একাকী ছিলেন। তিনি পরে স্মৃতিকথা ‘ক্যারিয়িং দ্য ফায়ার’-এ লিখেছেন, তিনি পুরোপুরি একা এবং চেনাজানা জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করেছিলেন, তবে কোনো ভয় অনুভব করেননি।

পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণকক্ষে যারা নভোচারীদের সঙ্গে সংযোগ রাখার দায়িত্বে আছেন, তাঁদের জন্য এই সময়টা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন বিশাল অ্যানটেনার মাধ্যমে মহাকাশযানের সংকেত সংগ্রহ করছে। প্রযুক্তি কর্মকর্তা ম্যাট কসবি বলেন, “যখন এটি চাঁদের আড়ালে যাবে, আমরা উদ্বিগ্ন থাকব; আবার দেখলে আনন্দিত হব। তখন নিশ্চিত হবে, তাঁরা নিরাপদে আছেন।”

ভবিষ্যতে চাঁদের কক্ষপথে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ বজায় রাখতে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। আর্টেমিস–২ নভোচারীরা এই বিচ্ছিন্ন সময়কে চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং ভূতত্ত্ব অধ্যয়নের জন্য ব্যবহার করবেন।

এই অভিযান চলাকালীন নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না; তারা চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এটি ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে ভ্রমণ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আর্টেমিস–২ মিশনের নভোচারীরা চাঁদের আড়ালে: পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে

আপডেট সময় : ০১:১৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

নাসার আর্টেমিস–২ মিশনের চারজন নভোচারী বর্তমানে পৃথিবীর যেকোনো মানুষের চেয়ে সবচেয়ে দূরবর্তী অবস্থানে পৌঁছেছেন। তাঁরা এতটাই দূরে আছেন যে, তাঁদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর আকার ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে। এ সময়ও তারা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখেছেন।

কিন্তু আজ সোমবার (যুক্তরাজ্যের সময় রাত ১১টা ৪৭ মিনিট, বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর ৪টা ৪৭ মিনিট) নভোচারীরা যখন চাঁদের পেছনের দিকে চলে যাবেন, তখন পৃথিবীর সঙ্গে তাদের রেডিও ও লেজার সংকেতের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। মহাকাশযান চাঁদের অদৃশ্য পাশে অবস্থান করবে, তাই চাঁদের অবস্থান মহাকাশযান ও পৃথিবীর মধ্যে সংকেত পৌঁছাতে বাধা দেবে। এই অবস্থায় নভোচারীরা প্রায় ৪০ মিনিট সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ থাকবেন।

নভোযানে থাকা ওরিয়ন পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, এই সময়কে বিশ্ববাসীর জন্য একত্র হওয়ার সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “যখন আমরা চাঁদের আড়ালে থাকব, তখন আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং শুভকামনা রাখুন যেন আমরা আবারও যোগাযোগ করতে পারি।”

এর আগেও ৫০ বছরের বেশি আগে অ্যাপোলো মিশনের নভোচারীরা একই ধরনের একাকিত্বের অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন। বিশেষ করে অ্যাপোলো ১১ মিশনের পাইলট মাইকেল কলিন্স চাঁদের পেছনের অংশ ঘুরতে থাকাকালীন প্রায় ৪৮ মিনিট একাকী ছিলেন। তিনি পরে স্মৃতিকথা ‘ক্যারিয়িং দ্য ফায়ার’-এ লিখেছেন, তিনি পুরোপুরি একা এবং চেনাজানা জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করেছিলেন, তবে কোনো ভয় অনুভব করেননি।

পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণকক্ষে যারা নভোচারীদের সঙ্গে সংযোগ রাখার দায়িত্বে আছেন, তাঁদের জন্য এই সময়টা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে অবস্থিত গুনহিলি আর্থ স্টেশন বিশাল অ্যানটেনার মাধ্যমে মহাকাশযানের সংকেত সংগ্রহ করছে। প্রযুক্তি কর্মকর্তা ম্যাট কসবি বলেন, “যখন এটি চাঁদের আড়ালে যাবে, আমরা উদ্বিগ্ন থাকব; আবার দেখলে আনন্দিত হব। তখন নিশ্চিত হবে, তাঁরা নিরাপদে আছেন।”

ভবিষ্যতে চাঁদের কক্ষপথে ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ বজায় রাখতে ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি চাঁদের চারপাশে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। আর্টেমিস–২ নভোচারীরা এই বিচ্ছিন্ন সময়কে চাঁদের পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং ভূতত্ত্ব অধ্যয়নের জন্য ব্যবহার করবেন।

এই অভিযান চলাকালীন নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না; তারা চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এটি ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে ভ্রমণ করছেন।