পদত্যাগের বন্যায় হুমকির মুখে বিসিবি সভাপতি বুলবুলের চেয়ার
- আপডেট সময় : ০২:০৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, কারণ একের পর এক পরিচালক পদত্যাগ করছেন। ক্লাব ক্যাটেগরি থেকে নির্বাচিত মঞ্জুরুল আলমসহ সাতজন পরিচালক পদত্যাগের মাধ্যমে বুলবুলের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে বুলবুল নিজেকে এখনও সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখছেন এবং সভাপতির চেয়ার ধরে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বুলবুল বলেছেন, ‘আমি আমার চেয়ারে থেকে যতটুকু পারি, তাই করব। সবার শেষে বের হব।’ তিনি জানান, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে তিনি নিজে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে সেবা করে যেতে চান। তাঁর বক্তব্য, আইসিসিতে তার অভিজ্ঞতা অন্য কাউকে নেই, এবং দেশকে সেবা করার জন্য তিনি এখানে রয়েছেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুলবুল সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ক্ষমতা ব্যবহার করে ঢাকা বিভাগের পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে বিএনপি সরকার থাকলেও আসিফ মাহমুদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ ছিল। এই প্রেক্ষাপটে কিছু ক্রিকেট সংগঠক ও এনসিপি মুখপাত্রের মতে, নির্বাচনের পেছনে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাবও রয়েছে।
বর্তমান কমিটিতে এখনও ১৮ জন পরিচালক রয়েছেন, যা ন্যূনতম ৯ জন কোরাম পূর্ণ করে। বুলবুলের সমর্থক হিসেবে পরিচালকদের মধ্যে ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট, আব্দুর রাজ্জাক, এম নাজমুল ইসলাম, নাজমুল আবেদীন ফাহিম, শাখাওয়াত হোসেন, আসিফ আকবর, মোকছেদুল কামাল বাবু, ইফতেখার রহমান মিঠু ও রুবাবা দৌলা আছেন।
অন্যদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইসিসি থেকে অনুমোদন নিয়ে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হবে এবং তিন মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেবে। এরপর জেলা-বিভাগের অ্যাডহক কমিটি নির্বাচন সম্পন্ন করে নতুন ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত বোর্ড গঠনের আশা করা হচ্ছে।
পদত্যাগের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সরকারের প্রভাব, প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখানো উল্লেখ করা হয়েছে। পদত্যাগকারী পরিচালকরা নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়গুলোও সামনে এনেছেন। বুলবুল বোঝেন এ অবস্থায় কিছু করার নেই, তবু তিনি ক্রিকেটীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিদায়ের আগে উচ্চ বেতনে বিভিন্ন নিয়োগ দিচ্ছেন।
ক্রিকেট বোর্ডে চলমান এই অস্থিরতার মধ্যে বুলবুল এখনও সভাপতির চেয়ার ধরে রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, যদিও পদত্যাগের ধারা ও তদন্ত কমিটির রিপোর্ট তাঁর অবস্থান ঝুঁকিতে ফেলেছে।




















