ডেটা সেন্টার নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করছে মেইন
- আপডেট সময় : ১০:৫৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে ডেটা সেন্টার নির্মাণের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে যাচ্ছে মেইন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে অবকাঠামোগত চাপ, বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ডেমোক্র্যাটিক স্টেট প্রতিনিধি মেলানি স্যাকস সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করেন, যা মূলত দলীয় ভোটে পাস হলেও কিছু রিপাবলিকান সদস্যও এতে সমর্থন দিয়েছেন। এখন গভর্নরের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে বিলটি, যা কার্যকর হলে আইন হিসেবে বাস্তবায়িত হবে।
নতুন এই আইনের আওতায় ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ অন্তত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কোনো ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা যাবে না। এ সময়ের মধ্যে এসব প্রকল্পের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
এর আগে সেন্ট চার্লস শহর, মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে, ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রথম স্থগিতাদেশ জারি করেছিল, যা পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু স্থানীয় প্রশাসন অনুসরণ করে। তবে রাজ্য পর্যায়ে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে মেইনই প্রথম।
এদিকে বিদ্যুৎ খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে জর্জিয়া, ওকলাহোমা এবং ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যও একই ধরনের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব বিবেচনা করছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টার ওয়াচ জানিয়েছে, স্থানীয় বিরোধিতার কারণে গত এক বছরে প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের ডেটা সেন্টার প্রকল্প জটিলতার মুখে পড়েছে।
মেইনের গভর্নর জ্যানেট মিলস এ স্থগিতাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার মতে, এআই ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণ জনসম্পদ, পরিবেশ এবং সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিশ্চিতভাবে বোঝা জরুরি।
তবে এ সিদ্ধান্ত ঘিরে শিল্প খাতে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ‘বিল্ড আমেরিকান এআই’-এর প্রচারক নাথান লিমার মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞা মেইনের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং দক্ষ শ্রমিকদের অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য করবে।
অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড বিল্ডার্স অ্যান্ড কন্ট্রাক্টরস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ অনির্বাণ বসু বলেন, মেইনের নাগরিকরা ইতোমধ্যেই উচ্চ বিদ্যুৎ বিলের চাপ বহন করছেন। তাই ডেটা সেন্টারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি তাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। পাশাপাশি রাজ্যটির ঐতিহ্যগত অর্থনীতি—যেমন মাছ ধরা, শিকার ও প্রাকৃতিক পরিবেশ—এর সঙ্গে বৃহৎ শিল্প অবকাঠামোর সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

























