নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বড় চ্যালেঞ্জ
- আপডেট সময় : ১২:৪০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
প্রায় দুই দশক পর অনুষ্ঠিত দেশের প্রথম অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক নীতি গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ জানায়, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রগতি ঘটলেও নতুন সরকারের সামনে এখন বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাত ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা যুক্ত হয়ে সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হবে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ছাড়া টেকসই স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়। পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা, দুর্নীতি দমন জোরদার করা এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। পাশাপাশি নির্বাচনী পরবর্তী সংস্কার ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে সমঝোতার পথ খুঁজতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। কোনো দলকে পুরোপুরি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা ভবিষ্যতে নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং গঙ্গা পানি বণ্টনের মতো অমীমাংসিত বিষয় সমাধানকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের শেষে সতর্ক করে বলা হয়, নির্বাচনের পরবর্তী স্বল্প সময়ের মধ্যে যদি সরকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সংস্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনঅসন্তোষ আবারও বেড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।



















