ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ লালমনিরহাটে বাইরে থেকে লোকআসলে উন্নত হবে জেলা প্রশাসক নাইক্ষ্যংছড়িতে অস্ত্রের মুখে রাবার বাগান থেকে তিন শ্রমিক অপহরণ জাপানের অমোরিতে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প, ক্ষয়ক্ষতি নেই হাতিয়াতে ১৬০০ লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ, গ্রেপ্তার ১ বিদ্যুৎ সংকটে সিরাজগঞ্জে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ যশোরে শাশুড়িকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ আটক শ্রীপুরে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ, বিএনপির ৬ নেতা বহিষ্কার

এবার শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

ভোলা লালমোহনে ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মাদ্রাসার শিক্ষকের (২৮) বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাশের উপজেলা চরফ্যাশনের এক প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তারহাট বাজার-সংলগ্ন আব্দুল আলীম পীর সাহেবের বাড়ির বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, সকালের দিকে শিশুটি পাশের বাড়ির আরেক শিশুকে নিয়ে বাড়ির পাশের বাগানে লাকড়ি কুড়াতে যায়। এ সময় প্রতিবেশী হেলাল মিয়ার ছেলে স্থানীয় এক মাদ্রাসার শিক্ষক নাঈম দুই শিশুকে চকলেট ও টাকা দেওয়ার কথা বলে বাগানের গহিনে নিয়ে যান। এ সময় এক শিশুকে এক দিকে বসিয়ে রেখে ভুক্তভোগী শিশুকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায় শিশুটি চিৎকার দিয়ে উঠলে সঙ্গে থাকা শিশুটি দৌড়ে এসে ভুক্তভোগী শিশুকে মাটিতে গড়াগড়ি করছে দেখতে পায়। এমতাবস্থায় নাঈম বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে সেখান থেকে সটকে পড়েন।

এরপর ভুক্তভোগী শিশুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় পাশের উপজেলা চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হবে এ ভেবে মাঝপথেই ধর্ষকের পরিবার শিশুসহ তাদের পরিবারের লোকজনকে নিয়ে যায় চরফ্যাশন উপজেলার ফার্স্ট কেয়ার হাসপাতাল নামের নাঈমের এক আত্মীয়র প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হলেও তার ক্ষতস্থানে সেলাই দিয়ে ওই ক্লিনিকেই তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পরপরই বিষয়টি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়। যদিও ঘটনাটিকে চাপা দিতে ধর্ষকের পরিবারের লোকজন ভুক্তভোগী শিশুর মা-বাবাকে দূরে সরিয়ে রেখে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভুক্তভোগী শিশুটির মা-বাবা বলেন, ‘আগে আমাদের মেয়ে সুস্থ হোক এরপর যা করার করব।’

এ বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের কানে আসতেই আমরা শিশুটির বাড়িতে পুলিশ পাঠাই। কিন্তু ওই বাড়িতে কেউ না থাকার কারণে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে শিশুটি চরফ্যাশনের কোন এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু ঘটনা সত্য তাই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না দিলেও অভিযুক্তকে আটকে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

এবার শিশু ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৩:৩৬:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোলা লালমোহনে ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মাদ্রাসার শিক্ষকের (২৮) বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাশের উপজেলা চরফ্যাশনের এক প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কর্তারহাট বাজার-সংলগ্ন আব্দুল আলীম পীর সাহেবের বাড়ির বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, সকালের দিকে শিশুটি পাশের বাড়ির আরেক শিশুকে নিয়ে বাড়ির পাশের বাগানে লাকড়ি কুড়াতে যায়। এ সময় প্রতিবেশী হেলাল মিয়ার ছেলে স্থানীয় এক মাদ্রাসার শিক্ষক নাঈম দুই শিশুকে চকলেট ও টাকা দেওয়ার কথা বলে বাগানের গহিনে নিয়ে যান। এ সময় এক শিশুকে এক দিকে বসিয়ে রেখে ভুক্তভোগী শিশুকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায় শিশুটি চিৎকার দিয়ে উঠলে সঙ্গে থাকা শিশুটি দৌড়ে এসে ভুক্তভোগী শিশুকে মাটিতে গড়াগড়ি করছে দেখতে পায়। এমতাবস্থায় নাঈম বিষয়টি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে সেখান থেকে সটকে পড়েন।

এরপর ভুক্তভোগী শিশুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় পাশের উপজেলা চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হবে এ ভেবে মাঝপথেই ধর্ষকের পরিবার শিশুসহ তাদের পরিবারের লোকজনকে নিয়ে যায় চরফ্যাশন উপজেলার ফার্স্ট কেয়ার হাসপাতাল নামের নাঈমের এক আত্মীয়র প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কামুক্ত হলেও তার ক্ষতস্থানে সেলাই দিয়ে ওই ক্লিনিকেই তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পরপরই বিষয়টি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়। যদিও ঘটনাটিকে চাপা দিতে ধর্ষকের পরিবারের লোকজন ভুক্তভোগী শিশুর মা-বাবাকে দূরে সরিয়ে রেখে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভুক্তভোগী শিশুটির মা-বাবা বলেন, ‘আগে আমাদের মেয়ে সুস্থ হোক এরপর যা করার করব।’

এ বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের কানে আসতেই আমরা শিশুটির বাড়িতে পুলিশ পাঠাই। কিন্তু ওই বাড়িতে কেউ না থাকার কারণে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে শিশুটি চরফ্যাশনের কোন এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু ঘটনা সত্য তাই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না দিলেও অভিযুক্তকে আটকে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’