ইলিশ রক্ষায় দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ: ভোলায় দুই লাখ জেলে বেকার
- আপডেট সময় : ০৯:১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
ইলিশ মাছের প্রধান প্রজনন মৌসুমকে সামনে রেখে উৎপাদন বৃদ্ধি ও নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ভোলার মেঘনা নদী ও তেঁতুলিয়া নদীতে মার্চ থেকে টানা দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জেলার সাত উপজেলার দুই লক্ষাধিক জেলে সাময়িকভাবে বেকার হয়ে পড়ছেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় জেলে পরিবারগুলো চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মৎস্য বিভাগ জানায়, ভোলার ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার—মোট ১৯০ কিলোমিটার এলাকাকে মাছের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার, বাজারজাত, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নির্দেশনা অনুযায়ী জেলেরা ইতোমধ্যে নৌকা, জালসহ মাছ ধরার সব সরঞ্জাম নদী থেকে সরিয়ে নিয়েছেন।
তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে। স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করেন, সরকার নিষেধাজ্ঞাকালীন ভিজিএফের আওতায় চাল দেওয়ার কথা বললেও তা অনেক সময় সঠিক সময়ে পৌঁছায় না। প্রকৃত জেলেদের অনেকে তালিকাভুক্ত না হওয়ায় সরকারি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হন। অধিকাংশ জেলে বেসরকারি এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালান; ফলে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়েও তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নিবন্ধিত এক লাখ ৬৮ হাজার জেলের মধ্যে ৯০ হাজার ২১৩ জনকে মাসে ৪০ কেজি করে সরকারি প্রণোদনার চাল দেওয়া হবে। এছাড়া ১৩ হাজার ৬০০ জেলেকে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে জেলেদের দাবি, শুধু চাল দিয়ে পরিবারের সব চাহিদা পূরণ হয় না। তেল, লবণসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে নগদ অর্থের প্রয়োজন হয়। উপরন্তু চাল বরাদ্দ পেতে দেরি হওয়ায় অনেক সময় ধার-দেনা করে দিন কাটাতে হয়। তাই তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জেলেরা আরও জানান, চলতি বছরও জেলার প্রায় ৭৮ হাজার নিবন্ধিত জেলে সরকারি বরাদ্দের চাল পাবেন না। পাশাপাশি প্রায় অর্ধলক্ষ অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যারা কোনো ধরনের সহায়তার আওতায় নেই। এত বিপুলসংখ্যক জেলের একমাত্র আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের মানবেতর জীবনযাপনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত নির্বিশেষে সব প্রকৃত জেলে পরিবারকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন মৎস্যজীবীরা।




















