ঢাকা ০৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীর মৃত্যু ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিনেতা যাহের আলভীর

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

আত্মগোপনে থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভী এবার স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা-র বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব দাবি করেন। পোস্টটিকে নিজের ‘শেষ পোস্ট’ উল্লেখ করে সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং স্ত্রীর অতীত নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলেন তিনি।

স্ট্যাটাসে আলভী দাবি করেন, তার বাসার ড্রয়িং ও ডাইনিং রুমে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, যার নিয়ন্ত্রণ কেবল ইকরার ফোনেই ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ রাতে ইকরার কয়েকজন বন্ধু বাসায় এসেছিলেন এবং মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। ওই সময় তারা সিগারেট, গাঁজা ও মদ্যপান করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। আলভীর দাবি, মৃত্যুর আগের দিন ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে ঘুমের ওষুধও আনিয়েছিলেন এবং সেটি সিসিটিভির আওতায়ই দেওয়া হয়েছিল। এসব ফুটেজ যেন কোনোভাবেই সরানো বা নষ্ট না করা হয়—এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

স্ত্রীর মোবাইল ফোন ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, ইকরার মোবাইল ফোনটি বর্তমানে পুলিশের মাধ্যমে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকেই জানা যাবে কে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করেছে এবং কোনো কথোপকথন মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে কি না। একই সঙ্গে আগের রাতে মদ্যপান বা মাদক সেবনের বিষয়টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে আসবে বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, ময়নাতদন্ত করার আগেই একটি মহল এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

স্ট্যাটাসে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে আলভী স্ত্রীর অতীত সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, ইকরার সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর ৪১তম ব্যাচের এক সহপাঠী ‘নাবিদ’-এর সম্পর্ক ছিল। এছাড়া ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করার পর ইকরার পরিবার তাকে না জানিয়েই অন্য জায়গায় ইকরার বিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, তখনও তিনি স্বামী থাকা সত্ত্বেও ওই বিয়েতে ইকরা সম্মতি দিয়েছিলেন এবং পরে ভুল বুঝতে পেরে তার কাছে ফিরে আসেন। পরে তিনি তাকে ক্ষমা করে আবার মেনে নেন বলেও উল্লেখ করেন আলভী।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে যাহের আলভী লেখেন, ওপর মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং সহকর্মীদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে হয়তো তিনি নিরাপদ নাও থাকতে পারেন। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের কাছে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রমাণগুলো যাচাই করে দেখার আহ্বান জানান। পোস্টের শেষ দিকে তিনি সবার কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্ত্রীর মৃত্যু ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিনেতা যাহের আলভীর

আপডেট সময় : ১০:১৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

আত্মগোপনে থাকা ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভী এবার স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা-র বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব দাবি করেন। পোস্টটিকে নিজের ‘শেষ পোস্ট’ উল্লেখ করে সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং স্ত্রীর অতীত নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলেন তিনি।

স্ট্যাটাসে আলভী দাবি করেন, তার বাসার ড্রয়িং ও ডাইনিং রুমে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, যার নিয়ন্ত্রণ কেবল ইকরার ফোনেই ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ রাতে ইকরার কয়েকজন বন্ধু বাসায় এসেছিলেন এবং মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। ওই সময় তারা সিগারেট, গাঁজা ও মদ্যপান করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। আলভীর দাবি, মৃত্যুর আগের দিন ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে ঘুমের ওষুধও আনিয়েছিলেন এবং সেটি সিসিটিভির আওতায়ই দেওয়া হয়েছিল। এসব ফুটেজ যেন কোনোভাবেই সরানো বা নষ্ট না করা হয়—এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

স্ত্রীর মোবাইল ফোন ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, ইকরার মোবাইল ফোনটি বর্তমানে পুলিশের মাধ্যমে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকেই জানা যাবে কে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করেছে এবং কোনো কথোপকথন মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে কি না। একই সঙ্গে আগের রাতে মদ্যপান বা মাদক সেবনের বিষয়টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে আসবে বলে তিনি মনে করেন। তার দাবি, ময়নাতদন্ত করার আগেই একটি মহল এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

স্ট্যাটাসে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়ার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে আলভী স্ত্রীর অতীত সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, ইকরার সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর ৪১তম ব্যাচের এক সহপাঠী ‘নাবিদ’-এর সম্পর্ক ছিল। এছাড়া ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করার পর ইকরার পরিবার তাকে না জানিয়েই অন্য জায়গায় ইকরার বিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, তখনও তিনি স্বামী থাকা সত্ত্বেও ওই বিয়েতে ইকরা সম্মতি দিয়েছিলেন এবং পরে ভুল বুঝতে পেরে তার কাছে ফিরে আসেন। পরে তিনি তাকে ক্ষমা করে আবার মেনে নেন বলেও উল্লেখ করেন আলভী।

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে যাহের আলভী লেখেন, ওপর মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং সহকর্মীদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে হয়তো তিনি নিরাপদ নাও থাকতে পারেন। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের কাছে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রমাণগুলো যাচাই করে দেখার আহ্বান জানান। পোস্টের শেষ দিকে তিনি সবার কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।