রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু কক্সবাজারে…
- আপডেট সময় : ০৭:৫০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫ ১০০ বার পড়া হয়েছে
রোহিঙ্গা সংকট নিরসন ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় টেকসই সমাধানের পথ খুঁজতে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন। রবিবার (২৪ আগস্ট) সকালে সেনাবাহিনীর হোটেল বে-ওয়াচ মিলনায়তনে উদ্বোধন হয় এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে রোহিঙ্গা ইস্যু বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দপ্তর এবং বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অংশ নিচ্ছেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিরা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এ সম্মেলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি দল।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে সামরিক জান্তার নির্মম নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। দীর্ঘ সাত বছর ধরে তারা আশ্রিত জীবনে থাকলেও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অপরদিকে এত বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর চাপ কক্সবাজারের স্থানীয় জনজীবনে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও ভয়াবহ মাদক প্রবাহে উখিয়া-টেকনাফের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন এক ভয়ংকর অবস্থায় পৌঁছেছে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছে এবং তারা দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দাবি তুলছেন। সম্মেলন ঘিরে তাই স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয় (RRRC) সূত্রে জানা যায়, তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট পাঁচটি কর্ম অধিবেশন থাকবে। আলোচনার মূল বিষয়,
- রোহিঙ্গাদের জন্য অব্যাহত মানবিক সহায়তা
- রাখাইনে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কার্যকর কৌশল
- আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার ও সমন্বয়
- আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা
- স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ও সমাধান
২৬ আগস্ট অতিথিরা সরাসরি উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন। সেখানে তারা বাস্তব চিত্র দেখবেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ১০৭ দেশের সমন্বয়ে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কক্সবাজারের এই ডায়লগ সেই প্রস্তুতির অংশ বলেই মনে করছেন নীতি-নির্ধারকেরা।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা যে মানবিক সংকটে আছে, সেটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা সহজ নয়। তবে কক্সবাজার সম্মেলনে আমরা আশা করছি অন্তত ৪০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থাও অংশ নেবে। রোহিঙ্গারা নিজেরাই সরাসরি তাদের কথা তুলে ধরতে পারবে। এটি হবে বড় একটি অর্জন।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে বহু বছর কেটে গেলেও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে স্থানীয়দের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এ অবস্থায় কক্সবাজারে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন তাদের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এ আয়োজন থেকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রত্যাবাসনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
ইনানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুধু রোহিঙ্গাদের সংকটই নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি বড় রাজনৈতিক মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। এখন অপেক্ষা—এই সম্মেলন থেকে কী বাস্তবসম্মত রূপরেখা বেরিয়ে আসে এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন হয়।




















