ঢাকা ০৮:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়, সমাধানে বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে — প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়াঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫ ৭৪ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রতীরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু হয়েছে তিন দিনের উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে ‘টেক অ্যাওয়ে টু দ্যা হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্যা রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শীর্ষক এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর উদ্বোধনী বক্তৃতায় স্পষ্ট করে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দায় শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, এটি পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। বাংলাদেশ মানবিক কারণে আট বছর ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ সংকটের স্থায়ী সমাধান একা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক মহলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ ছাড়া প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। তাদের স্বদেশ একটাই—মিয়ানমার। তাই তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। নতুবা এ অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে পড়বে।

ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন, রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক শক্তি ও মনোবল ধরে রাখার মতো পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধু মানবিক সহায়তা নয়, সমস্যার মূলোৎপাটন জরুরি। আর এ দায় শুধু বাংলাদেশের নয়—বিশ্বের।

সম্মেলনের প্রথম দিনেই রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দল বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। এ সময় এক রোহিঙ্গা তরুণ বলেন, আমরা বাংলাদেশে আশ্রিত, কিন্তু এখানে আমাদের ভবিষ্যৎ নেই। আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে আমাদের দেশ মিয়ানমারে। এই বক্তব্য উপস্থিত বিদেশি প্রতিনিধিদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। তারা আশ্বাস দেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রোহিঙ্গাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

জাতিসংঘের এক প্রতিনিধি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পৃক্ত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি জানান, ইউরোপ অব্যাহতভাবে মানবিক সহায়তা দেবে, তবে মূল সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে।

সম্মেলনের আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনের এই আয়োজন থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কার্যকর রূপরেখা, আন্তর্জাতিক ফান্ড গঠন, গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা জোরদার এবং শরণার্থীদের মনোবল বৃদ্ধি করার বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিদেশি কূটনীতিকরা সরাসরি কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের জীবনের করুণ বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করবেন এবং প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের প্রত্যাশা শুনবেন।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এ সম্মেলন থেকে যদি কোনো নতুন আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বা উদ্যোগ ঘোষিত হয়, তবে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের অচলাবস্থা ভাঙতে তা গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণে যেমন স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ একা নয়, বিশ্বের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে রোহিঙ্গা ইস্যুর স্থায়ী সমাধান আনতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার নয়, সমাধানে বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে — প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আপডেট সময় : ০৮:৩৮:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রতীরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু হয়েছে তিন দিনের উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে ‘টেক অ্যাওয়ে টু দ্যা হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্যা রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’ শীর্ষক এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর উদ্বোধনী বক্তৃতায় স্পষ্ট করে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দায় শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, এটি পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। বাংলাদেশ মানবিক কারণে আট বছর ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ সংকটের স্থায়ী সমাধান একা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক মহলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ ছাড়া প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। তাদের স্বদেশ একটাই—মিয়ানমার। তাই তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। নতুবা এ অঞ্চল দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে পড়বে।

ড. ইউনূস তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন, রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক শক্তি ও মনোবল ধরে রাখার মতো পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধু মানবিক সহায়তা নয়, সমস্যার মূলোৎপাটন জরুরি। আর এ দায় শুধু বাংলাদেশের নয়—বিশ্বের।

সম্মেলনের প্রথম দিনেই রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দল বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। এ সময় এক রোহিঙ্গা তরুণ বলেন, আমরা বাংলাদেশে আশ্রিত, কিন্তু এখানে আমাদের ভবিষ্যৎ নেই। আমাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে আমাদের দেশ মিয়ানমারে। এই বক্তব্য উপস্থিত বিদেশি প্রতিনিধিদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। তারা আশ্বাস দেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রোহিঙ্গাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

জাতিসংঘের এক প্রতিনিধি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পৃক্ত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি জানান, ইউরোপ অব্যাহতভাবে মানবিক সহায়তা দেবে, তবে মূল সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে হবে।

সম্মেলনের আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনের এই আয়োজন থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের কার্যকর রূপরেখা, আন্তর্জাতিক ফান্ড গঠন, গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা জোরদার এবং শরণার্থীদের মনোবল বৃদ্ধি করার বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিদেশি কূটনীতিকরা সরাসরি কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে তারা রোহিঙ্গাদের জীবনের করুণ বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করবেন এবং প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের প্রত্যাশা শুনবেন।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এ সম্মেলন থেকে যদি কোনো নতুন আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বা উদ্যোগ ঘোষিত হয়, তবে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের অচলাবস্থা ভাঙতে তা গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণে যেমন স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশ একা নয়, বিশ্বের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে রোহিঙ্গা ইস্যুর স্থায়ী সমাধান আনতে।