হিজলায় চাল ছিনতাই অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার গোডাউন সিল
- আপডেট সময় : ১১:৩২:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও জেলেদের চাল জোরপূর্বক রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ এপ্রিল উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইলিয়াস শিকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি গোডাউন তালা লাগিয়ে দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ এপ্রিল গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কার্ডধারী জেলেদের মাঝে জনপ্রতি ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। তবে জেলেরা চাল নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাঘা বাড়ি এলাকায় তাদের গতিরোধ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব দুলাল সরদারের একটি ভাড়া করা গোডাউনের সামনে জেলেদের থামিয়ে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল রেখে দেওয়া হয়, এবং চাল গুলো ওই গোডাউনে রাখা হয়। ভুক্তভোগী জেলেরা জানান সরকারি বরাদ্দের পুরো চাল নিয়ে তারা বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না, কার্ডধারী ইউনুস সিকদার জানান গতকাল আমার বাড়ি গিয়ে আমাকে বলে আসছে বাঘাবাড়ির ওখানে এসে ২৫ কেজি চাউল রেখে আসবা ওখানে আমাদের লোক থাকবে যদি কোন অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করো তাহলে পরবর্তীতে তোমাদের কার্ড বাতিল হয়ে যাবে এই ভয়ে আমরা চাল দিয়ে আসছি, মাউল তলা গ্রামের সনাতন ধর্মের লক্ষীকান্ত রায় বলেছেন ভাই আমরা এতকিছু জানি না কবির ঘরামী বলছে দুলাল সরদারের চাউলের গোডাউনে আমাদের লোক থাকবে সেখানে ২৫ কেজি রেখে আসবা আর যদি না রাখো পরবর্তীতে তোমাদের কার্ড বাতিল হয়ে গেলে আমাদেরকে দায়ী করতে পারবে না, রঙ্গা গ্রামের আলমগীর হোসেন খান বলেন আমাকে বলছে দুলাল সরদারের গোডাউনে ২৫ কেজি চাল রেখে দিতে সেখানে দিয়েছি। প্রকাশ্যে দিবালোকে এভাবে চাল রেখে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভয়ে অনেক জেলে মুখ খুলতে সাহস না পেলেও বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে ৬ এপ্রিল হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইলিয়াস শিকদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি অভিযুক্ত দুলাল সরদারের গোডাউনে তল্লাশি চালাতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে ইউএনও মহোদয় সন্দেহজনক ওই গোডাউনটি তালাবদ্ধ করে দেন। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইলিয়াস শিকদার জানান, জেলেদের চাল রেখে দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং ভুক্তভোগী জেলেদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিতে প্রশাসন পাশে থাকবে। এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতার বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।




















