ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে চাঁদা না পেয়ে কৃষকদল নেতাকে কুপিয়ে জখম

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার এলাকায় চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় আমিন শরীফ (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ী ও মহানগর কৃষকদলের নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। তিনি ফরিদপুর মহানগর কৃষকদলের সহ-সভাপতি এবং বাজারের আবাসিক হোটেল সিটি গার্ডেনের মালিক। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই তার ছেলে মো. সরোয়ার শরীফ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হোটেল সিটি গার্ডেনের দ্বিতীয় তলার কাউন্টারে প্রবেশ করে। এ সময় তারা আমিন শরীফের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীরা হোটেলের আসবাবপত্র ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে।

পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা তাকে জোরপূর্বক হোটেলের চতুর্থ তলার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে প্রধান আসামি তমাল চাপাতি দিয়ে তার মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। এতে তার বাম হাতের কবজি ও বাহু গুরুতর জখম হয়। পরে মাহমুদ ছ্যানদা দিয়ে আঘাত করলে তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে আরও জখম হয়। অন্য সহযোগীরাও তাকে রড ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় তার পকেট থেকে নগদ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং দাবি করা চাঁদার টাকা না দিলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেয়।

ফরিদপুর মহানগর কৃষকদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুন অর রশিদ মামুন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। তিনি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মামলায় শহরের আলিপুর পাকিস্তান পাড়া এলাকার মৃত হিরু কসাইয়ের দুই ছেলে তমাল (৩০) ও মাহমুদ (৩৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা চিহ্নিত চাঁদাবাজ এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনার এজাহার পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফরিদপুরে চাঁদা না পেয়ে কৃষকদল নেতাকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময় : ১১:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুর শহরের হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার এলাকায় চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় আমিন শরীফ (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ী ও মহানগর কৃষকদলের নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। তিনি ফরিদপুর মহানগর কৃষকদলের সহ-সভাপতি এবং বাজারের আবাসিক হোটেল সিটি গার্ডেনের মালিক। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই তার ছেলে মো. সরোয়ার শরীফ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হোটেল সিটি গার্ডেনের দ্বিতীয় তলার কাউন্টারে প্রবেশ করে। এ সময় তারা আমিন শরীফের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীরা হোটেলের আসবাবপত্র ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে।

পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা তাকে জোরপূর্বক হোটেলের চতুর্থ তলার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে প্রধান আসামি তমাল চাপাতি দিয়ে তার মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে প্রতিহত করেন। এতে তার বাম হাতের কবজি ও বাহু গুরুতর জখম হয়। পরে মাহমুদ ছ্যানদা দিয়ে আঘাত করলে তার বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে আরও জখম হয়। অন্য সহযোগীরাও তাকে রড ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় তার পকেট থেকে নগদ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং দাবি করা চাঁদার টাকা না দিলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেয়।

ফরিদপুর মহানগর কৃষকদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুন অর রশিদ মামুন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। তিনি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মামলায় শহরের আলিপুর পাকিস্তান পাড়া এলাকার মৃত হিরু কসাইয়ের দুই ছেলে তমাল (৩০) ও মাহমুদ (৩৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা চিহ্নিত চাঁদাবাজ এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ঘটনার এজাহার পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।