ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আরও ৩ সপ্তাহ বাড়ালেন ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ১১:১৮:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেন, বৈঠকটি “খুবই ফলপ্রসূ” হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের সঙ্গে কাজ করে দেশটিকে হিজবুল্লাহর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, এই উদ্যোগ বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ, যেখানে ইরান সম্পর্কিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল। সাত সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সংঘাত বন্ধ করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই সংঘাত দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করে এবং সীমান্তজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকে।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোশেপ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু শিগগিরই হোয়াইট হাউসে সফর করবেন। তিনি বলেন, “লেবাননের সামনে হিজবুল্লাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ, আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করব।”
বৈঠকে উপস্থিত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর প্রভাব কমানোই উভয় দেশের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। বৃহস্পতিবার রাতে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ার দাবি করে, যা ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স প্রতিহত করেছে বলে জানায়।
এর আগের দিন দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক সাংবাদিক নিহত ও আরেকজন আহত হওয়ার ঘটনায় লেবানন এটিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিযোগ তোলে। যদিও ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এই প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত, প্রাণহানি ও ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির প্রেক্ষাপটে স্থায়ী শান্তি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

























