ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই সনদ সংশোধন করে বাস্তবায়ন করবে সরকার: আইনমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীতে খেলাফত মজলিসের গণসমাবেশ শুরু বসিলায় নির্মাণাধীন ভবনে দুর্ঘটনা, শ্রমিক নিহত পুনর্গঠনে ব্যস্ত বিএনপি, জুলাই সনদ নিয়ে বাড়ছে মতভেদ “যারা আমাদের গুপ্ত বলে, তারাই আসলে গুপ্ত”—ছাত্রদল প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বান্দরবানে অপহৃত ৬ শ্রমিক মুক্তি, মুক্তিপণ দেওয়ার অভিযোগ যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাত, দুই লাখ টাকা ছিনতাই ‘হেলহোল’ মন্তব্যে ট্রাম্পকে নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া “মানসিক বিকারগ্রস্তকে রক্ষার দায়িত্ব ছাত্রদল নেয়নি”—ছাত্রদল সভাপতির মন্তব্য নতুন সরকারের সামনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বড় চ্যালেঞ্জ

রানা প্লাজা মামলা ঝুলে আছে, নেই অগ্রগতি

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

সাভারের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধস ট্র্যাজেডির এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শ্রম আদালতে দায়ের করা মামলাগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি। মামলার বাদী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর-এর কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি এবং আসামিদের পলাতক অবস্থার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।

ধসের পর শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সরকার পক্ষ থেকে ডাইফ বাদী হয়ে ভবনমালিক ও পোশাক কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে ১১টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় রানা প্লাজায় অবস্থিত পাঁচটি গার্মেন্টস কারখানা ও ভবনমালিকদের অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ভবনমালিক সোহেল রানা গ্রেপ্তার থাকলেও অধিকাংশই পলাতক।

দীর্ঘদিন ঢাকার প্রথম শ্রম আদালত-এ বিচারাধীন থাকার পর ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মামলাগুলো ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালত-এ স্থানান্তর করা হয়। এতে নতুন করে মামলা নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের একাধিক মামলা বর্তমানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ আগস্ট ২০২৬। একটি মামলা অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে থাকলেও সেটিরও একই তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। তবে ২০১৩ সালে দায়ের করা তিনটি মামলার নথি আদালতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মামলাগুলোর অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে ডাইফের নিষ্ক্রিয়তাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালতের অতিরিক্ত বেঞ্চ অফিসারের দায়িত্বে থাকা শেখ নূর ইমাম তাপস বলেন, মামলাগুলোতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, এমনকি বাদীপক্ষ থেকেও তদারকি নেই। ফলে ওয়ারেন্ট জারি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

তিনি আদালতের ভয়াবহ মামলার চাপের চিত্র তুলে ধরে জানান, এই এক আদালতেই প্রায় ৭ হাজার মামলা ঝুলে আছে। প্রতিদিন শতাধিক মামলা তালিকাভুক্ত থাকায় প্রতিটি মামলায় যথাযথ সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও ধীর করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, ডাইফের আইন কর্মকর্তা মো. মাছুম বিল্লাহ জানান, মামলাগুলোর অগ্রগতি তদারকির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে আদালত স্থানান্তরের কারণে কিছু মামলার নথি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, সেগুলো খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, দেশের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার বিচার আজও অনিশ্চয়তায় আটকে আছে। দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও আসামিদের অনুপস্থিতিতে রানা প্লাজার হতাহতদের ন্যায়বিচার এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রানা প্লাজা মামলা ঝুলে আছে, নেই অগ্রগতি

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

সাভারের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধস ট্র্যাজেডির এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও শ্রম আদালতে দায়ের করা মামলাগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি। মামলার বাদী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর-এর কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি এবং আসামিদের পলাতক অবস্থার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।

ধসের পর শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সরকার পক্ষ থেকে ডাইফ বাদী হয়ে ভবনমালিক ও পোশাক কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে ১১টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় রানা প্লাজায় অবস্থিত পাঁচটি গার্মেন্টস কারখানা ও ভবনমালিকদের অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ভবনমালিক সোহেল রানা গ্রেপ্তার থাকলেও অধিকাংশই পলাতক।

দীর্ঘদিন ঢাকার প্রথম শ্রম আদালত-এ বিচারাধীন থাকার পর ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মামলাগুলো ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালত-এ স্থানান্তর করা হয়। এতে নতুন করে মামলা নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের একাধিক মামলা বর্তমানে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ আগস্ট ২০২৬। একটি মামলা অভিযোগ গঠনের শুনানির পর্যায়ে থাকলেও সেটিরও একই তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। তবে ২০১৩ সালে দায়ের করা তিনটি মামলার নথি আদালতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মামলাগুলোর অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে ডাইফের নিষ্ক্রিয়তাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালতের অতিরিক্ত বেঞ্চ অফিসারের দায়িত্বে থাকা শেখ নূর ইমাম তাপস বলেন, মামলাগুলোতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না, এমনকি বাদীপক্ষ থেকেও তদারকি নেই। ফলে ওয়ারেন্ট জারি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

তিনি আদালতের ভয়াবহ মামলার চাপের চিত্র তুলে ধরে জানান, এই এক আদালতেই প্রায় ৭ হাজার মামলা ঝুলে আছে। প্রতিদিন শতাধিক মামলা তালিকাভুক্ত থাকায় প্রতিটি মামলায় যথাযথ সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও ধীর করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে, ডাইফের আইন কর্মকর্তা মো. মাছুম বিল্লাহ জানান, মামলাগুলোর অগ্রগতি তদারকির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া আছে। তবে আদালত স্থানান্তরের কারণে কিছু মামলার নথি হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, সেগুলো খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, দেশের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার বিচার আজও অনিশ্চয়তায় আটকে আছে। দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও আসামিদের অনুপস্থিতিতে রানা প্লাজার হতাহতদের ন্যায়বিচার এখনো অধরাই রয়ে গেছে।