ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে টিএসসিতে বাউল সন্ধ্যা

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ৫৭ বার পড়া হয়েছে

বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘প্রতিবাদী বাউল সন্ধ্যা’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক আয়োজন করছে একদল শিক্ষার্থী।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় টিএসসির পায়রা চত্বরে এই সাংস্কৃতিক আয়োজন হবে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত।

মনোয়ার হোসেন প্রান্ত বলেন, বাংলার লোকসংস্কৃতি, মানবতাবাদ ও সাম্যের প্রতীক বাউল দর্শন এই ভূখণ্ডের মুক্তচিন্তার ধারাকে শত শত বছর ধরে সমৃদ্ধ করেছে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের ঊর্ধ্বে দাঁড়িয়ে মানুষের অন্তর্দর্শন ও সাম্যের যে শিক্ষা বাউল সাধকরা দিয়ে আসছেন, তা আমাদের সমাজকে আরো সহনশীল করে তুলেছে।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাউল শিল্পীদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এ ধরনের আক্রমণ কেবল একজন শিল্পীর ওপর নয়, এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর স্পষ্ট আঘাত।

গণতান্ত্রিক সমাজে সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নয়, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধই একটি স্থিতিশীল ও অগ্রসর রাষ্ট্রের ভিত্তি।

আয়োজকদের মধ্যে আবিদুর রহমান মিশু বলেন, বাউল দর্শন কেবল একটি শিল্পধারা নয়; এটি সাম্য, মানবতা ও শান্তির পথ। এই পথ রক্ষায় রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গন সবাইকে এক সঙ্গে দাঁড়াতে হবে।

আয়োজকরা এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে চারটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— হামলার ঘটনাগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, বাউল ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘৃণা, উস্কানি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে টিএসসিতে বাউল সন্ধ্যা

আপডেট সময় : ০৬:১৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ‘প্রতিবাদী বাউল সন্ধ্যা’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক আয়োজন করছে একদল শিক্ষার্থী।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় টিএসসির পায়রা চত্বরে এই সাংস্কৃতিক আয়োজন হবে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত।

মনোয়ার হোসেন প্রান্ত বলেন, বাংলার লোকসংস্কৃতি, মানবতাবাদ ও সাম্যের প্রতীক বাউল দর্শন এই ভূখণ্ডের মুক্তচিন্তার ধারাকে শত শত বছর ধরে সমৃদ্ধ করেছে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের ঊর্ধ্বে দাঁড়িয়ে মানুষের অন্তর্দর্শন ও সাম্যের যে শিক্ষা বাউল সাধকরা দিয়ে আসছেন, তা আমাদের সমাজকে আরো সহনশীল করে তুলেছে।

তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাউল শিল্পীদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এ ধরনের আক্রমণ কেবল একজন শিল্পীর ওপর নয়, এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর স্পষ্ট আঘাত।

গণতান্ত্রিক সমাজে সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ কাম্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নয়, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধই একটি স্থিতিশীল ও অগ্রসর রাষ্ট্রের ভিত্তি।

আয়োজকদের মধ্যে আবিদুর রহমান মিশু বলেন, বাউল দর্শন কেবল একটি শিল্পধারা নয়; এটি সাম্য, মানবতা ও শান্তির পথ। এই পথ রক্ষায় রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গন সবাইকে এক সঙ্গে দাঁড়াতে হবে।

আয়োজকরা এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে চারটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— হামলার ঘটনাগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, বাউল ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘৃণা, উস্কানি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ নিতে হবে।