ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৩০ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি ছাত্রশিবিরের গজারিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন নিয়ে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের আপত্তি তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার মাগুরায় আমগাছে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার শেরপুরে অবৈধ ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা গৌরনদীতে অ্যাম্বুলেন্স–ইজিবাইক সংঘর্ষে ৭ জন আহত হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে বিমান ভাড়া হ্রাস করার পরিকল্পনা: ধর্মমন্ত্রী ড. সাইমুম পারভেজকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ লালমনিরহাট–কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও মদ জব্দ

মক ভোটিংয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা, ক্ষোভ ইসি সানাউল্লাহর

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি হিসেবে মক ভোটিংয়ের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের চারটি বুথে বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এই কার্যক্রম চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। কিন্তু মক ভোটিং শুরুর প্রথম ঘণ্টা পার হয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থার মধ্য দিয়ে।

জানা গেছে, একসঙ্গে সংসদ ও গণভোট দিতে কত সময় লাগে এবং কি কি ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে ভোট ব্যবস্থাপনায় তা চিহ্নিত করতে এই মক ভোটিংয়ের আয়োজন করা হয়। ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম ঘণ্টায় চারটি বুথে যথাক্রমে ২৩ জন, ৩৭ জন, ২৭ জন ও ২১ জন ভোট দিয়েছেন বলে জানান সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার। নানা বয়সী ভোটাররা ইসির এই মক ভোটিংয়ে অংশ নেন। ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী। মাত্র এক মিনিটে ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানান একাধিক ভোটার।

শহিদুল আলম নামের একজন ভোটার সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে ভোট দিয়েছেন খুব সহজে। কিন্তু গণভোটের ‘হ্যাঁ/না’ ভোট দিয়েছেন না বুঝেই। তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা দরকার। এখানে গোলাপি রংয়ের ব্যালটে কি লেখা আছে তা পড়ার সুযোগও হয়নি, ছোট লেখায় খেয়ালও করতে পারিনি। আমি এটা ভালোভাবে বুঝিনি। একটা টিক ও ক্রস চিহ্ন রয়েছে, একটাতে সিল মেরে দিলাম। এটা নিয়ে প্রচারণা দরকার।

প্রিজাইডিং অফিসাররা বলছেন, ভোট ব্যবস্থাপনা ভালোভাবে করা সম্ভব হয়েছে। ভোটার সিরিয়াল জানানো থেকে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত ভোটারদের সহায়তা করা হয়েছে। গোপন কক্ষে ভোট দেওয়ার আগে ভোটার তালিকা যাচাই, ব্যালট পেপার সরবরাহ, সিল, কালি দেওয়া—সব মিলিয়ে প্রতি ভোটারের এক মিনিটের মতো সময় লাগে।

মক ভোটিংয়ের সময় শেরেবাংলা নগর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে উৎসুক জনতা ও ভোটারদের ভিড় লেগে ছিল। সাংবাদিকদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মতো। এমন পরিস্থিতিতে ভোট শুরুর এক ঘণ্টা পরেই কেন্দ্রে আসেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি ভোটকেন্দ্রের হ-য-ব-র-ল অবস্থার কারণে কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভোট দিতে একজনের কত সময় লাগে তা পুনরায় নিজে তদারকি শুরু করেন তিনি। পুরুষ ও নারী ভোটকেন্দ্রের জন্য ২০ জন করে ভোটার বাছাই করে নতুনভাবে মক ভোটিং শুরু করেন।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ভোটের লাইনে দাঁড়ানো থেকে ভোট দেওয়া পর্যন্ত কত সময় লাগে তা দেখতে হবে। কারণ, এ সময়টার ওপর ভিত্তি করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে অনেক কিছু। ভোটকক্ষের সংখ্যা ঠিক আছে কি-না, গোপন কক্ষের সংখ্যা ঠিক আছে কি-না, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে কি-না ইত্যাদি। শুধুমাত্র এখানে নাটক করার জন্য এ কাজটা নয়, কাজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরকম হ-য-ব-র-ল ও অরাজকতা থাকলে এ কাজ করে লাভ নেই।

ভোটার ছাড়া অন্যদের সাময়িকভাবে সরিয়ে দিয়ে ‘মক ভোটিং’ এর কাজে সহায়তা করার অনুরোধ জানান তিনি। বেলা ১১টার দিকে এই মক ভোটিং দেখতে সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদেরও আসার কথা রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মক ভোটিংয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থা, ক্ষোভ ইসি সানাউল্লাহর

আপডেট সময় : ১২:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি হিসেবে মক ভোটিংয়ের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের চারটি বুথে বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এই কার্যক্রম চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। কিন্তু মক ভোটিং শুরুর প্রথম ঘণ্টা পার হয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থার মধ্য দিয়ে।

জানা গেছে, একসঙ্গে সংসদ ও গণভোট দিতে কত সময় লাগে এবং কি কি ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে ভোট ব্যবস্থাপনায় তা চিহ্নিত করতে এই মক ভোটিংয়ের আয়োজন করা হয়। ভোটগ্রহণ শুরুর প্রথম ঘণ্টায় চারটি বুথে যথাক্রমে ২৩ জন, ৩৭ জন, ২৭ জন ও ২১ জন ভোট দিয়েছেন বলে জানান সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার। নানা বয়সী ভোটাররা ইসির এই মক ভোটিংয়ে অংশ নেন। ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী। মাত্র এক মিনিটে ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানান একাধিক ভোটার।

শহিদুল আলম নামের একজন ভোটার সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে ভোট দিয়েছেন খুব সহজে। কিন্তু গণভোটের ‘হ্যাঁ/না’ ভোট দিয়েছেন না বুঝেই। তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা দরকার। এখানে গোলাপি রংয়ের ব্যালটে কি লেখা আছে তা পড়ার সুযোগও হয়নি, ছোট লেখায় খেয়ালও করতে পারিনি। আমি এটা ভালোভাবে বুঝিনি। একটা টিক ও ক্রস চিহ্ন রয়েছে, একটাতে সিল মেরে দিলাম। এটা নিয়ে প্রচারণা দরকার।

প্রিজাইডিং অফিসাররা বলছেন, ভোট ব্যবস্থাপনা ভালোভাবে করা সম্ভব হয়েছে। ভোটার সিরিয়াল জানানো থেকে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত ভোটারদের সহায়তা করা হয়েছে। গোপন কক্ষে ভোট দেওয়ার আগে ভোটার তালিকা যাচাই, ব্যালট পেপার সরবরাহ, সিল, কালি দেওয়া—সব মিলিয়ে প্রতি ভোটারের এক মিনিটের মতো সময় লাগে।

মক ভোটিংয়ের সময় শেরেবাংলা নগর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে উৎসুক জনতা ও ভোটারদের ভিড় লেগে ছিল। সাংবাদিকদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মতো। এমন পরিস্থিতিতে ভোট শুরুর এক ঘণ্টা পরেই কেন্দ্রে আসেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি ভোটকেন্দ্রের হ-য-ব-র-ল অবস্থার কারণে কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভোট দিতে একজনের কত সময় লাগে তা পুনরায় নিজে তদারকি শুরু করেন তিনি। পুরুষ ও নারী ভোটকেন্দ্রের জন্য ২০ জন করে ভোটার বাছাই করে নতুনভাবে মক ভোটিং শুরু করেন।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ভোটের লাইনে দাঁড়ানো থেকে ভোট দেওয়া পর্যন্ত কত সময় লাগে তা দেখতে হবে। কারণ, এ সময়টার ওপর ভিত্তি করে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে অনেক কিছু। ভোটকক্ষের সংখ্যা ঠিক আছে কি-না, গোপন কক্ষের সংখ্যা ঠিক আছে কি-না, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে কি-না ইত্যাদি। শুধুমাত্র এখানে নাটক করার জন্য এ কাজটা নয়, কাজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরকম হ-য-ব-র-ল ও অরাজকতা থাকলে এ কাজ করে লাভ নেই।

ভোটার ছাড়া অন্যদের সাময়িকভাবে সরিয়ে দিয়ে ‘মক ভোটিং’ এর কাজে সহায়তা করার অনুরোধ জানান তিনি। বেলা ১১টার দিকে এই মক ভোটিং দেখতে সিইসি ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদেরও আসার কথা রয়েছে।